নেত্রকোনার কলমাকান্দায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণের কারণে উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে আটটি ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রামের দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।
তিনি জানান, কলমাকান্দায় ২০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শুকনা খাবারসহ ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত আছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলমাকান্দা উপজেলা সদরের চানপুর, থানা রোড, নয়াপাড়া, পশ্চিমবাজার, পূর্ববাজার, কলেজ রোড, বাসাউড়াসহ বেশকিছু এলাকায় এখন হাঁটুপানি থেকে কোমরপানি। মানুষের বাড়িঘর, দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে এখন বন্যার পানিতে প্লাবিত। পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। উপজেলার সঙ্গে সব ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে উপজেলায় বিদ্যুৎ বিছিন্ন রয়েছে। কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, চান্দুয়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, উদয়পুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। উপজেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। এ বন্যার পানিতে তিন সহস্রাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এছাড়া গবাদিপশুর খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে চরমভাবে।
কলমাকান্দা বাজারের প্রীতি ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী বিজয় তালুকদার বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাসায় যাই। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে এসে দেখি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ৪০০ বস্তা সিমেন্ট পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারের বন্যার পানি অনেক বেশি হয়েছে।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত বলেন, পাহাড়ি ঢলে কলমাকান্দার উব্দাখালীসহ ছোট-বড় সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে। শুক্রবার উব্দাখালী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপরে আছে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৬ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার।
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল হাসেম বলেন, উপজেলার সব এলাকাতেই এখন বন্যার পানি। ইউএনও কার্যালয়, উপজেলা পরিষদসহ শহরে হাঁটুপানি থেকে কোমরপানি। উপজেলায় ইতোমধ্যে সাতটি আশ্রয়ণকেন্দ্র খোলা হয়েছে। তাদের খাবারসহ সব ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ৪০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।