পাকিস্তানে প্রবল বৃষ্টিতে একটি যাত্রীবাহী বাস পাহাড়ের রাস্তা থেকে পিছলে গভীর খাদে পড়ে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ১২ জন। রোববার সকালে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির বেলুচিস্তান প্রদেশের জোব জেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রোববার দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে একটি বাস রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে কোয়েটার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বাসটি খাদে পড়ে গেলে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।
বেলুচিস্তান প্রদেশের শিরানি জেলার সহকারী প্রশাসক মাহতাব শাহ জানান, বাসটিতে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন। ধনা সার নামক একটি জায়গার কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসপ্রাপ্ত গাড়ির ধ্বংসাবশেষ এবং আশপাশে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধান করছেন।
তিনি বলেন, মূলত ভারি বৃষ্টির মধ্যে বাসটি দ্রুত গতিতে চলার সময় ভেজা রাস্তায় পিছলে যায় এবং চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। যার ফলে বাসটি প্রায় ২০০ ফুট (৬১ মিটার) খাদে পড়ে যায়। এতে ১৯ যাত্রী নিহত ও ১১ জন আহত হন। মৃতদেহগুলোকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে তাদের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
জোবের সিভিল হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. নুরুল হক জানান, আহতদের হাসপাতালে আনা হচ্ছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।
জানা গেছে, বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মীর আবদুল কুদুস বিজেঞ্জো এই ঘটনায় নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনাও জানিয়েছেন। একইসঙ্গে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জোবের সিভিল হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার নির্দেশ দেন।
পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফও বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। এছাড়া আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।