ads
রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৯:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান নোয়াখালী: হাজতখানাকে বিয়ে বাড়ি বানালেন দুই আ.লীগ নেতা! মিউজিক্যাল ফিল্মে সুনেরাহ পিএসসির সাবেক গাড়িচালক আবেদ আলীর ছেলে সিয়াম গ্রেপ্তার বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন ফ্যাসিস্ট আমলে বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি: লুটপাট ভয়াবহ আদানির চুক্তি রাষ্ট্রবিরোধী শিক্ষিকাকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, সাবেক স্বামী গ্রেফতার বিসিসির সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা সোনারগাঁয়ে যুবলীগের নেতা-নেত্রী গ্রেপ্তার জকসু নির্বাচন: ভোট গণনা স্থগিত হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ

যুক্তরাজ্যে বেনিফিট জালিয়াত ধরতে গোপন তদন্ত, গত বছর ৬শ’র বেশি মানুষ অভিযুক্ত

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০২২
  • ৪৬ বার পঠিত

ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার্ক এন্ড পেনশন্স চলতি সামারে নতুন একটি অভিযান পরিচালনা করবে। এসময় তাঁরা অনেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এর লেনদেন এবং সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপ এর ওপর নজরদারি করবে। কারণ, গত বছর দেশব্যাপী ৬শ’র বেশী মানুষ বেনিফিট প্রতারণার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ব্রিটেনজুড়ে দুই কোটির বেশি মানুষ দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয় সামাল দিতে ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন থেকে স্টেট পেনশন বা বেনিফিট গ্রহণ করছে। বেনিফিট প্রতারণা অথবা ত্রুটির কারণে সরকারের প্রতি বছর ৪ বিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। এটি প্রতিরোধ করতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ৬১৩ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করে একটি নজরদারি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। মে মাসে এই ঘোষণা দেয়া হয়। নজরদারির অংশ হিসেবে ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার্ক এন্ড পেনশন্স দুই হাজার শক্তিশালী দল গঠন করছে। এসব দল ২০ লাখ ইউনিভারসেল ক্রেডিট গ্রহণকারীর তথ্য যাচাই-বাছাই করবে।

যেসকল ইউনিভারসেল ক্রেডিট গ্রহণকারীর তথ্য সম্পর্কে ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার্ক এন্ড পেনশন্স এর সন্দেহ আছে, নতুন তদন্ত দলগুলো তাদের যোগ্যতা এবং তাদের ব্যাক্তিগত ও পারিবারিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে। এছাড়া মহামারির সময়ে অনেক সন্দেহভাজন লোক ইউনিভারসেল ক্রেডিটে ঢুঁকে পড়েছেন বলেও ধারনা করছে ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার্ক এন্ড পেনশন্স।

ডিডব্লিউপি এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর, আনুমানিক ৬.৩ বিলিয়ন পাউন্ডের বেনিফিট প্রতারণা হয়েছে। অথচ এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২০ সালে বেনিফিট প্রতারণায় সরকারের ক্ষতি হয়েছিল ২.৮ বিলিয়ন পাউন্ড। এর সাথে আরও ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ক্ষতি হয়েছিল ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার্ক এন্ড পেনশন্স এর ভুলের কারণে।

বেনিফিট পাওয়ার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বেনিফিট গ্রহণ করা অথবা ব্যাক্তিগত পরিস্থিতি পরিবর্তনের তথ্য ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার্ক এন্ড পেনশন্সকে অবহিত না করাকে বেনিফিট প্রতারণা বলা হয়। সবচেয়ে বেশী যে বেনিফিট প্রতারণা হয়, সেটি হলো, কাজ করে রোজগার করা সত্ত্বেও আনেমপ্লয়মেনট বেনিফিট গ্রহণ করা। আরেক ধরনের প্রতারণা হলো, বেনিফিট আবেদনকারীরা বলে থাকেন, তাঁরা একাকী বসবাস করেন, অথচ প্রকৃতপক্ষে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী কিংবা পার্টনারের কাছ থেকে আর্থিক সমর্থন পেয়ে থাকেন।

ব্যাক্তিগত পরিস্থিতির পরিবর্তন, অর্থাৎ চেঞ্জ অফ সারকামসটেনসেস, এর তথ্য ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার্ক এন্ড পেনশন্সকে অবহিত করতে ব্যর্থ হওয়াকেও বেনিফিট প্রতারণা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। যেমনঃ কেউ পার্টনারের সাথে বসবাস শুরু করলে, ঘর পরিবর্তন করলে, অথবা কোনো আত্মীয় আপনার জন্য টাকা-পয়া রেখে মারা গেলে সেসব তথ্যও ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার্ক এন্ড পেনশন্সকে জানাতে হবে।

বেনিফিট প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়া বেশ দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। সাদা পোশাকে অনেক তদন্ত কর্মকর্তা আপনার অজান্তেই আপনার ঘরে কিংবা কর্মস্থলে এসে হাজির হতে পারেন। বিষয়টি ভয়ংকর হতে পারে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অনেক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তাঁরা নানাভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। যেমনঃ সন্দেহভাজনদের চলেফেরার ওপর নজরদারি, তাদের সাক্ষাতকার গ্রহণ করা এবং তাদের নানা ধরনের ডকুমেনট দেখা। তদন্তকারীদের নতুন যেসব ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। যেমনঃ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা, তথ্য-প্রমাণ জব্দ করা, গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করা, এমনকি গ্রেফতার করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের। এমনও হতে পারে, আপনাকে জানানোর আগে আপনি জানবেনই না আপনাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়ে গেলে আদালতে গিয়ে অবশেষে জানতে পারবেন। তবে ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার্ক এন্ড পেনশন্স যদি আনুষ্ঠানিকভাবে আপনার বিষয়ে তদন্ত শুরু করে, তবে তাঁরা চিঠি, টেলিফোন, অথবা ইমেইলে বিষয়টি আপনাকে জানাবে। তারাই আপনাকে জানাবে, তারা ভিজিট করতে আসবে কিনা, অথবা আপনাকে কোনো সাক্ষাৎকার দিতে হবে কিনা। তবে তদন্তের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার্ক এন্ড পেনশন্স এর পক্ষ থেকে আপনাকে কিছুই জানানো হবে না। কারো বিষয়ে সার্বিক মূল্যায়ন করে আনুষ্ঠানিক তদন্তের সিদ্ধান্ত নিলে ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার্ক এন্ড পেনশন্স এর পক্ষ থেকে আপনাকে জানানো হবে।

অনেকে ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার্ক এন্ড পেনশন্সকে গোপনে তথ্য দিয়ে থাকেন। এসব তথ্যের অনেকগুলো শেষ পর্যন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

বেনিফিট জালিয়াতির কিছু সাধারণ উদাহরণ হলোঃ

১)আনেমপ্লয়মেনট বেনিফিট অথবা ডিজেবিলিটি বেনিফিট পাওয়ার জন্য অসুস্থতা নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেয়া। কম উপার্জন দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যবসা বা কর্মসংস্থান থেকে আয়ের তথ্য ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার্ক এন্ড পেনশন্সকে অবহিত না করা।

২)প্রকৃত উপার্জন কম দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যবসা কিংবা চাকুরী থেকে আয়ের তথ্য ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার্ক এন্ড পেনশন্সকে অবহিত করতে ব্যর্থ হওয়া।

৩)পরিবারে আর্থিক সহযোগিতা করে, এমন কারো তথ্য অবহিত না করা।

৪) মালিকানায় থাকা অর্থের চেয়ে ব্যাঙ্ক একাউনটে কম অর্থ প্রদর্শন করা।

অভিযোগ গঠনের আগে ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার্ক এন্ড পেনশন্স এর তদন্তকারী কর্মকর্তারা যেসব তথ্য-প্রমাণ যাচাই করবেন, তার মধ্যে রয়েছেঃ

১)নজরদারি কর্মকর্তার প্রতিবেদন
২)ছবি ও ভিডিও
৩)অডিও রেকর্ডিং
৪)চিঠি-পত্র
৫)ব্যাঙ্ক স্টেটমেনট সহ অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের উপাত্ত
৬)সন্দেহভাজন ব্যাকটি কিংবা তাঁর পরিচিত লোকের সাক্ষাতকার
৭)যে বা যারা অভিযোগ করেছে, তাদের দেয়া প্রমাণাদী

সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ওয়ালি উল্লাহ
নির্বাহী সম্পাদক
নিউজ রুম :০২-৯০৩১৬৯৮
মোবাইল: 01727535354, 01758-353660
ই-মেইল: editor@sristybarta.com
© Copyright 2023 - SristyBarta.com
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102