শেরপুরে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা ঘটনার পলিটেকনিক ছাত্রলীগের সভাপতি সহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
রবিবারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের করা হয়। শনিবার দিবাগত রাতে নকলা উপজেলা থেকে পলিটেকনিক ছাত্রলীগ নেতা ও মামলার ৫ নাম্বার আসামী মোঃ মারুফকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সনাক্ত করে রবিবার রাতে সদরের মুন্সিরচর ইউনিয়নের মাছপাড়া গ্রাম থেকে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ হাসানুর রহমান হাসানকে আটক করে, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার সকালে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করার পর দুপুরে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন রাত সাড়ে ৮টায় শহরের নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে আব্দুল আউয়ালের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জিহাদ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সাধারন সম্পাদক রাকিব ও তার অনুসারীদের নিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও রড দিয়ে গুরুত্বর আহত করে। আহত ওই ব্যাবসায়ী বর্তমানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন রাতে শহরের নিউ মার্কেট এলাকায় বাদীর ছেলে ইন্টারনেট ব্যাবসায়ী কারিমুল হাসান জিহাদ ও তার ব্যাবসায়ী পার্টনার তৌফিকুর রহমান তারিফের উপর অতর্কিত হামলা করে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের হুকুমে শেরপুর পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউট ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক রাকিব সহ আরও কয়েজন।
খবর পেয়ে জিহাদের চাচা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের নিয়ে হামলাকারীদের ফেরাতে চেষ্টা করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে চাচা আব্দুল আউয়াল শেখ কে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এই ঘটনার পরদিন রাত সাড়ে ৮টায় শহরের নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে আব্দুল আউয়াল এর ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান জিহাদ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা তার অনুসারীদের নিয়ে প্রথমে গালিগালাজ করতে থাকে, সেসময় ভুক্তভোগী ব্যাবসায়ী আব্দুল আউয়াল প্রতিবাদ করলে রেজা তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
পরবর্তীতে রেজা ও তার সাথে থাকা অনুসারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় ৫টি কুপ দেয় ও রড দিয়ে পিটিয়ে বুকের পাজরের হাড়, দুই হাত, বাম পা এবং মেরুদন্ডের হাড় ভেঙে দেয়। এসময় স্থানীয়রা তাদেরকে ফেরাতে চেষ্টা করলে তাদেরকেও অস্ত্র দেখিয়ে ভয় ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ পুলিশ পরিদর্শক (এস আই) হাসানুজ্জামান জানান, মামলার এজাহারভুক্ত আসামী ছাড়াও ঘটনায় জড়িত আমরা আরও বেশ কয়েকজনকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেশে সনাক্ত করেছি, আমরা দুইজন আসামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছি, বাকি আসামীদের দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হবে।