প্রেমের বিয়ে পরিবার মেনে না নেওয়ায় ফেসবুক লাইভে এসে এক দম্পতি বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। সোমবার (২৫ জুলাই) রাতে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার দৌলতপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আত্মহত্যার চেষ্টা চালানো স্বামী-স্ত্রী হলেন- আদর্শ সদর উপজেলার দৌলতপুর এলাকার ফরহাদ আহমেদ ভূঁইয়ার ছেলে সাজ্জাদ ভূঁইয়া বিজয় (২৮) ও বলরামপুর এলাকার ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমানের মেয়ে নূরুন্নাহার সামিয়া (১৭)।
বিজয় দাবি করেন, ‘তার স্ত্রী সামিয়া নগরীর একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ২৯ ডিসেম্বর আমরা বিয়ে করি। বিয়ের পর তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেই। চলতি বছরের ৩ মার্চ সে আমাকে বলে তার পরিবার জানতে পেরেছে, তাই তাকে নির্যাতন করছে। তাকে যেন আমি নিয়ে আসি। পরে সেদিনই আমি তাকে নিয়ে চলে যাই কুমিল্লার বাইরে। সেখানে আমরা প্রায় দেড় মাস সংসারও করি। পরে আমি জানতে পারি, আমার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অপহরণ মামলা দিয়েছে শ্বশুর। তারপর স্ত্রীকে বললাম, তুমি কয়েকদিন বাড়িতে থেকে তোমার বাবা-মাকে বোঝাও। আমাকে ধরে নিয়ে গেলে কারাগারে চলে যাবো।’
তিনি বলেন, ‘১৭ এপ্রিল আমাকে পুলিশ অ্যারেস্ট করে। এ সময় সামিয়া তার নিজের বাড়িতে। বাড়িতে যাওয়ার পর তাকে নির্যাতন করে পরিবার। এদিকে, আমি ২৪ মে জেল থেকে জামিনে বের হই। বের হওয়ার পর স্ত্রী পরিবারকে বলেও রাজি করাতে পারেনি। সবশেষ ২১ জুলাই স্ত্রী পরিবার ছেড়ে আমার কাছে চলে আসে। এ সময় তার বাবা ও আত্মীয় স্বজনরা কল দিয়ে আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তারা বলেন, সামিয়াকে মেরে আমাকে হত্যা মামলায় ফাঁসাবে। যেহেতু আমরা একসঙ্গে থাকতেই পারবো না। তো বেঁচে থেকে কী লাভ তাই মূলত আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া লাইভের ভিডিওতে দেখা গেছে, লাইভে এসে প্রথমে বিস্তারিত ঘটনা তুলে ধরেন। এরপর দুজন বিষপান করেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন নাফিস ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দুজনেই শঙ্কামুক্ত আছেন। তাদের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি দিয়েছি। এখন হয়তো রিলিজ নিয়ে নিয়েছে।’
সামিয়ার বাবা মাকসুদুর রহমান দাবি করেন, ‘আমার মেয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক। আমি তাই মামলা করেছি। আরেকটা মামলা করবো। সে আমার মেয়ের জামাই নয়। সে একটা জাল কাবিননামা করেছে—যেখানে তারিখ দিয়েছে ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ যা এখনও আসেনি। ওই ছেলে একটা অপরাধী। তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা আছে। তাছাড়া আমরা মেয়েকে আজ আদালতের মাধ্যমে সেফ কাস্টডিতে দিয়েছি।’
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি সহিদুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা নিরাপদে আছে।’