প্রাক্তন স্ত্রীর টিকটক ভিডিও দেখে মেনে নিতে পারেননি রক্ষণশীল স্বামী। তাই ৭০০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে এসে তাকে গুলি করে খুন করলেন আমেরিকার বাসিন্দা এক পাকিস্তানি ব্যক্তি। এরপর আত্মহত্যা করেন রাহিল আহমদ নামে ওই ব্যক্তি। মৃতার নাম সানিয়া খান (২৯)। তিনিও পাকিস্তানের নাগরিক।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি গত সপ্তাহে আমেরিকার লিওনিসে ঘটেছে। তাদের বিবাহ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে টিকটকে ভিডিও পোস্ট করায় ক্ষেপে যান রাহিল, গুলি করে হত্যা করেন সানিয়াকে। পরে নিজেও আত্মহত্যা করেন।
সানিয়া ছিলেন আধুনিকা। ফ্যাশনদুরস্ত পোশাক পরতেন, নিয়মিত টিকটক ভিডিও করতেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকতেন সবসময়। এছাড়াও পেশাদার ফটোগ্রাফার ছিলেন তিনি। এর ঠিক বিপরীত চরিত্রের পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন রাহিল। বিয়ে করলেও এক বছরও টিকেনি তাদের সম্পর্ক। চলতি বছরের মে মাসে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
সানিয়ার চলনবলন নিয়ে প্রথম থেকেই আপত্তি ছিল রাহিলের। বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেলেও সানিয়াকে শাস্তি দেবে বলে ঠিক করেছিল রাহিল। জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই সানিয়াকে খুনের ছক কষছিল সে। মাঝেও একবার প্রাক্তন স্ত্রীর উপর হামলা করে। যদিও গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এবার আর তা হয়নি।
পাকিস্তানি সমাজের রক্ষণশীলতা নিয়ে সমালোচনা করে টিকটকে একটি পোস্ট করেন সানিয়া। তিনি বলেন, একজন দক্ষিণ এশীয় মহিলার বিবাহবিচ্ছেদ হলে গোটা জীবনটাই যেন ব্যর্থ হয়ে যায়! নিজের সমাজের লোকেরাই লেবেল সেঁটে দেয় আপনার উপরে। মানসিক সমর্থন মেলে না কারও কাছ থেকে। একজনের সঙ্গে জোর করে থাকতে বলা হয়, এই জন্য যে লোকে কী বলবে! মেয়েদের জন্য সেই সম্পর্ক থেকে সরে আসা কঠিন হয়ে ওঠে, যা তার শুরু করাই উচিত হয়নি।
এছাড়াও নিজের ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে অনেক ভিডিও পোস্ট করেন সানিয়া। সানিয়ার এইসব টিকটক ভিডিও দেখে মাথায় আগুন জ্বলে ওঠে রাহিলের। সে ৭০০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে লিওনিসে প্রাক্তন স্ত্রীর বাড়িতে ঢোকে। জানা যায়, রাহিল যখন সানিয়ার বাড়িতে ঢোকে তখন কাছাকাছি পুলিশ ছিল। তারাই বাড়ির ভেতর থেকে পরপর দু’টি গুলির শব্দ পান। প্রথমে সানিয়াকে গুলি করে খুন করার পর নিজেও আত্মঘাতী হন রাহিল। পুলিশের বক্তব্য, রাহিলের ধারণা ছিল, সানিয়ার আধুনিক জীবনই তাদের বিচ্ছেদের কারণ।