নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় পুলিশের সোর্স পরিচয়ে নিরীহ মানুষজনকে মিউজিক বাজিয়ে গানের তালে তালে নেচে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে যুবক শাহআলমের বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে তার এমন একটি নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ জুলাই) বিকেলে ফেসবুকে পোস্ট করা নির্যাতনের ওই ভিডিওটি আপলোড দিয়ে বলা হয়, সোনারগাঁ থানার এক এএসআই এর সোর্স পরিচয় দিয়ে বুক ফুলিয়ে নিরীহ মানুষের ওপর বর্বর নির্যাতন করে যাচ্ছেন শাহ আলম। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার টর্চার সেলে নিয়ে মিউজিক বাজিয়ে গানের তালে তালে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।
৪৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত শাহআলম একটি কক্ষে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে মিউজিকের তালে তালে পেটাচ্ছেন আর নাচছেন। কিছুক্ষণ পর পর নেচে উল্লাস করছেন আর পেটাচ্ছেন।
শাহআলম বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় খন্দকার প্লাজার পাশে তার বোনের বাড়িতে থাকেন। মাঝে মধ্যে একই উপজেলার চিলারবাগ এলাকায় নানাবাড়িতেও তিনি থাকেন।
সোনারগাঁ থানা পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে শাহ আলম নীরিহ যুবকদের আটকে রেখে মুক্তিপণ বাবদ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পরবর্তীতে পুলিশের মাধ্যমে ডাকাতিসহ বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে তাদের হয়রানি করেন। শাহ আলমের বিরুদ্ধে এলাকায় ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম বলেন, শাহ আলম পুলিশের সোর্স নয়। পুলিশকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার করা হচ্ছে। সে তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী এবং ডাকাতির সঙ্গে জড়িত।
ওসি হাফিজুল ইসলাম আরো বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। আজই তাকে ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার করে আদালতে চালান করে দিয়েছি। তিনি যাকে পেটাচ্ছেন তিনিও একজন ডাকাত। তাদের দুজনের বিরুদ্ধে অন্তত ১০-১৫টি মামলা আছে এবং অনেকবার তারা জেলও খেটেছেন।