চট্টগ্রামে ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর কথা বলে কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী কিশোরীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে নগরের হালিশহর থানার আগ্রাবাদ ছোটপুল এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। রোববার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার।
গ্রেফতাররা হলেন- টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দক্ষিণপাড়া এলাকার ধলা মিয়ার মেয়ে সাদিয়া আক্তার রুনা ও লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার উত্তর চরমার্টিন এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে মো. ফরিদ।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরী টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার একটি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। প্রতিবেশী সাদিয়া আক্তার রুনার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল তার। ৩১ জুলাই রুনা তাকে ফোন করে বলেন- চট্টগ্রামে ভালো প্রতিষ্ঠান আছে, আরো দুজন মেয়ে সেখানে পড়াশোনা করে। তুমি এলে ভালো পড়াশোনা করতে পারবে।
সেই কথার পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন কাউকে কিছু না জানিয়ে রুনার সঙ্গে যোগাযোগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে চট্টগ্রামের হালিশহর চলে আসেন ওই কিশোরী। এরপর রুনার কথামতো ফরিদের সঙ্গে অটোরিকশায় হালিশহর থানা এলাকার একটি টিনশেড ভাড়া ঘরে যান। সেখানে অন্য কাউকে দেখতে না পেয়ে জানতে চাইলে নানা ধরনের টালবাহানা ও এলোমেলো কথাবার্তা বলতে থাকেন ফরিদ।
পরবর্তীতে ফরিদকে নিজের স্বামী বলে কিশোরীর কাছে পরিচয় দেন রুনা। একপর্যায়ে কিশোরী বাড়ি ফিরে যেতে চাইলে রুনা বাধা দেন এবং তার সঙ্গে থাকা টাকা ও অলংকার নিয়ে নেন। পরে ৩ আগস্ট রাতে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন ফরিদ। ওই সময় কিশোরী বটি দিয়ে ধাওয়া করলে ফরিদ পালিয়ে যান।
এদিকে, কিশোরীকে খুঁজে না পেয়ে ৩ আগস্ট ঘাটাইল থানায় জিডি করে তার পরিবার। তার সন্ধানের চেষ্টার একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন- চট্টগ্রাম শহরে তাকে আটকে রেখেছে কতিপয় অপরাধী। এরপরই তারা বিষয়টি র্যাবকে জানান।
র্যাব কর্মকর্তা নুরুল আবছার বলেন, ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার ও অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে নজরদারি অব্যাহত রাখে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে হালিশহর থানার আগ্রাবাদ ছোটপুল এলাকার একটি টিনশেড ঘর থেকে কিশোরীকে উদ্ধারের পাশাপাশি দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান- ফরিদের সঙ্গে রুনার অবৈধ সম্পর্ক ছিল। তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। দুজনই মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা সহজ, সরল, অভাবগ্রস্ত নারী ও শিশুদের কাজ দেওয়ার কথা বলে এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করতেন। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।