কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ‘মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশ’ করায় এক পর্যটককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ট্যুরিস্ট পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী নাজমুল হাসান নামের এক পর্যটক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে মারের সত্যতা না পাওয়ায় অভিযোগ ঘিরে রহস্য জন্ম দিয়েছে। যদিও পর্যটককে মারধরের অভিযোগ নিয়ে সর্বত্র ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।
নাজমুল হাসান কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানার সুজানগর এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে।
কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান অভিযোগপত্রের বরাতে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানার সুজানগর এলাকার নাজমুল হাসান নামের এক পর্যটক কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে যান। এ সময় ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা বাধা দিলে ওই পর্যটকের সঙ্গে বাদানুবাদ ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা মারধর করেছেন বলে অভিযোগ ওই পর্যটকের।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে ভুক্তভোগী পর্যটক জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি অফিস খুললে অফিসিয়ালিভাবে ট্যুরিস্ট পুলিশের সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হবে।
অভিযোগে নাজমুল দাবি করেছেন, তার ভাগিনা মো. শান্তকে নিয়ে কক্সবাজার আসেন বুধবার (১০ আগস্ট)। পরে হোটেল-মোটেল জোনের ‘ড্রিম গেস্ট’ নামের এক আবাসিক হোটেলে উঠেন। পরদিন বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টায় তারা মোটরসাইকেল নিয়ে সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট ঘুরতে যান। এ সময় জনৈক ফটোগ্রাফার তাদের জানান, সৈকতে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশ ও ঘুরাঘুরি করা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এরপরই নাজমুল ও তার ভাগিনা মোটরসাইকেলসহ সৈকত এলাকা থেকে ফিরছিলেন। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত জনৈক ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তা নাজমুলের কাছ থেকে হেলমেট এবং ফটোগ্রাফারের ক্যামেরা নিয়ে নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাজমুল ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেও তাকে ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে ৪-৫টি আঘাত করেন।
ট্যুরিস্ট পুলিশের এ ধরনের ন্যক্কারজনক আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগে ভুক্তভোগী নাজমুল মন্তব্য করেন- অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে পুলিশ সদস্যের কাছে তিনি ক্ষমা চান। এরপর ওই পুলিশ সদস্য উত্তেজিত হয়ে হাতে লাঠি দিয়ে পর্যটককে বেধড়ক মারধর করেছেন।
তবে ট্যুরিস্ট পুলিশ কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে মারধরের সত্যতা মেলেনি। বরং পর্যটক শাকিল ও অভিযুক্ত পুলিশের এএসআই আমজাদ একে-অপরকে হাত মিলিয়ে বিদায় দিতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে ভুক্তভোগী পর্যটক নাজমুল হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কোনো ধরনের সাড়া দেননি।
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, আমাদের কাছে কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দেয়নি। জেলা প্রশাসন হতে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। আমরা সংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরে স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চালাচ্ছি।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে নাজমুল হাসানকে আমাদের অফিসে আনা হয় এবং তিনি কাগজপত্র আনার জন্য ৮টা ৫ মিনিটে বেরিয়ে যান। ৮টা ৪৫ মিনিটে তিনি কাগজ নিয়ে আসেন। তার কাগজ চেক করে ৯টা ১৫ মিনিটে তাকে প্রথমবারের মতো মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুরো ঘটনার সময় ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্য কর্তৃক পর্যটককে মারধরের কোনো বিষয় প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়নি। অফিসের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ আছে যে কেউ দেখতে চাইলে দেখানো যাবে। পর্যটনের স্বার্থে যাচাই-বাছাই করে সত্যটি তুলে ধরার জন্য সাংবাদিক ভাইদের অনুরোধ জানান ট্যুরিস্ট পুলিশের এই কর্মকর্তা।
প্রসঙ্গত, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) পর্যটন সেলের ছৈয়দ মুরাদ ইসলামের বিরুদ্ধে সৈকতের বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা থেকে বিচকর্মী ও ব্যবসায়ী নেতাদের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ আছে। এমন অভিযোগ তুলে ট্যুরিস্ট পুলিশের দায়িত্বশীলরা জেলা প্রশাসক ডিসি বরাবর অভিযোগ দিলে তাকে পর্যটন সেল থেকে প্রত্যাহার করা হয়। মূলত এরপর থেকেই ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এক প্রকার স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। এ কারণে অভিযোগ ঘিরে রহস্যের জন্ম দিয়েছে।