নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় স্থানীয় এক সাংবাদিককে ‘মামলায় জড়ানোর হুমকি’ দেওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সতর্ক করেছেন জেলা প্রশাসক।
শনিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার বলাইশিমুল মাঠে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের নির্মাণাধীন ঘরে আগুন দেওয়া নিয়ে ইউএনও মাহমুদা বেগমের সংবাদ সম্মেলনের একটি বক্তব্যের ভিডিও নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছিলেন দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি হুমায়ূন কবীর। তারপরই মোবাইল ফোনে ইউএনও ‘হুমকি’ দেন বলে অভিযোগ করেন হুমায়ূন।
জানা গেছে, বলাইশিমুল মাঠে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রী উপহারের ঘর নির্মাণ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে প্রশাসনের দ্বন্দ্ব চলছে। সেখানে পুলিশি প্রহরায় ঘরের নির্মাণকাজ চলছে। এর মধ্যেই শনিবার ভোরে সেখানকার দুটি ঘরের চালে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
বিকেলে এ নিয়ে নিজের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ইউএনও মাহমুদা বেগম। সেই সংবাদ সম্মেলনে ঘরে আগুন দেওয়ার জন্য বলাইশিমুল মাঠ রক্ষার আন্দোলনকারীদের তিনি দোষারোপ করেন। এর পেছনে স্থানীয় একজন সাবেক সংসদ সদস্য, একজন ‘মনোনয়ন প্রত্যাশী’ আওয়ামী লীগ নেতার ‘হাত’ রয়েছে বলেও গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে তিনি অভিযোগ করেন।
ইউএনও মাহমুদা বেগম বলেন, সরকারি দলের কিছু লোক, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বামদল সবাই মিলে দূরভীসন্ধিমূলক ষড়যন্ত্র করছে। আমরা প্রশাসন অনেক ধৈর্য্য ধরেছি। আর নয়। দরকার হলে পুরো বলাইশিমুল ইউনিয়নকে গ্রেপ্তার করব। এটা হলো আমাদের সিদ্ধান্ত। কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেব না।
এই বক্তব্যের ভিডিওই নিজের ফেসবুকে দিয়েছিলেন দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য হুমায়ূন কবীর। তারপরই তিনি ইউএনওর ফোন পান বলে কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী চৌধুরী কাজল জানান।
তিনি বলেন, শনিবার বিকালে ইউএনও উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি যা বলেছেন তার ভিডিও ধারণ করেন সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর। পরে তিনি সেই ভিডিও নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন।
সন্ধ্যায় হুমায়ূন কবীর প্রেসক্লাবে বসা ছিলেন। তখন আমিও প্রেসক্লাবে ছিলাম। এ সময় ইউএনও ফোন করেন হুমায়ূন কবীরকে।
ইউএনও ফোনে সংবাদিক হুমায়ূন কবীরকে প্রশ্ন করেন, তিনি কেন প্রেস রিলিজ থেকে প্রতিবেদন না করে সংবাদ সম্মেলনে ওই বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছেন। সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর তখন বলেন, প্রকাশ্যে অনুষ্ঠানে ইউএনওর দেওয়া বক্তব্য তিনি ভিডিও করেছেন এবং সাংবাদিক হিসেবে ফেসবুকে দিয়েছেন, সেখানে সমস্যা কোথায়।
ইউএনও তখন হুমকি দেন বলে সাংবাদিক হুমায়ূন কবীরের ভাষ্য। তিনি বলেন, ইউএনওর বিরোধিতা করতে থাকলে ঘর পোড়ানোর মামলায় ঢোকাতে বাধ্য হবেন বলে তিনি হুমকি দেন।
কেন্দুয়ার ইউএনও মাহমুদা বেগম বলেন, সাংবাদিক হুমায়ূন প্রথম থেকেই এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছেন। নানা সময়ে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এসব স্ট্যাটাসের কমেন্টে অশালীন ও অশ্রাব্য কথাবার্তা লেখা হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেননি।সাংবাদিকদের সঙ্গে নানা সময়ে নানা বিষয়ে কথাবার্তা হয়। তিনি সেগুলোও ফেসবুকে প্রচার করে দেন। অন্য সকল সাংবাদিকের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক।
সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বলেন, আমি ইউএনও ম্যাডামের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করিনি। তিনি আমাকে হয়রানি করতেই মামলার হুমকি দিয়েছেন। আমি এর বিচার চাই।
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজল বলেন, সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ফেসবুকে প্রচার করে হুমায়ূন কবীর কোনো অপরাধ করেছেন বলে আমি মনে করি না।কেন তিনি (ইউএনও) মামলায় আসামি করার হুমকি দিলেন বুঝতে পারছি না। এসবই গণমাধ্যম কর্মীদের হয়রানি করার জন্যে করা হয়।
এ রকম দায়িত্বশীল পদে থেকে তিনি যে হুমকি দিয়েছেন তা ন্যক্কারজনক। আমরা তার প্রতিবাদ জানাই। প্রতিকার চাই।
এ বিষয়ে নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিস গণমাধ্যমকে বলেন, ইউএনওকে সতর্ক করা হয়েছে। ইউএনওর এসব কথা বলা ঠিক হয়নি। আর তিনি এ ধরনের কথা বলতেও পারেন না। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
#আরটিভি