বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি (১৯৭২-১৯৭৩) এবং জাতীয় পার্টি-জেপির মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের স্বকীয়তা হারিয়েছে। এটা শুধু ছাত্রলীগ নয়, সমগ্র রাজনীতির জন্য প্রযোজ্য। ফলে শিক্ষা বা শিক্ষার্থীদের সমস্যার ওপর গুরুত্বারোপের চেয়ে তারা দলীয় লেজুড়বৃত্তিতেই বেশি ব্যস্ত।
এগুলো করতে গিয়েই আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। ছাত্রনেতারা দেশের ভবিষ্যৎ নেতা। এখন তারা যদি চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হয় তাহলে তো ছাত্র রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য কেবল ব্যাহতই হয় না, বিপর্যস্তও হয়।
ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর অপকর্ম সম্পর্কে জানতে চাইলে সংগঠনটির সাবেক এই শীর্ষ নেতা বলেন, সামগ্রিক রাজনীতির মান যখন নিচে নেমে যায় তখন স্বাভাবিকভাবেই তার সঙ্গে ছাত্র রাজনীতির মানও নিচে নামে। আমাদের সময় ছাত্র সংগঠনগুলোর আদর্শিকভাবে কোনো কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে মিল ছিল। যেমন ছাত্রলীগের ছিল আওয়ামী লীগের সঙ্গে, ছাত্র ইউনিয়নের ছিল কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে। কিন্তু গঠনতন্ত্র ও অন্যান্য বিষয়ে আমরা আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতাম। এখন ছাত্র সংগঠনগুলো মূলত রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিতে পরিণত হয়েছে।
ছাত্রলীগের এসব নেতিবাচক কর্মকাণ্ড বর্তমান সরকারের উন্নয়নে আঁচড় এবং ভোটে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই প্রভাব ফেলবে। কারণ আওয়ামী লীগ সহযোগী সংগঠন হিসাবে তাদের দাবি করে। আর এটা মানুষের অজানা নয় যে, ছাত্রলীগের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত একটা সম্পর্ক আছে। তাই এর প্রভাব তো পড়বেই। এগুলো প্রতিরোধে মূল দলের কী করা উচিত বা আপনার পরামর্শ কী-জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সংগ্রাম ও গৌরবের ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার জন্য নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাস এবং ‘মোটিভেশন’ জোরদার করতে হবে। যেন তারা আদর্শের প্রতি অনুগত হয় এবং এই ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড পরিহার করে।