ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গণধর্ষণের শিকার হয়ে বিষপানে এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে ভাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়ারুল ইসলাম।
মামলায় নিহত ওই স্কুলছাত্রীর ফুফাতো ভাইসহ তার অজ্ঞাতনামা আরও দুই সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে স্কুলছাত্রীর মরদেহ দাফন করা হয়।
নিহত ওই স্কুলছাত্রীর নাম মীম আক্তার (১৫)। সে হাজরাকান্দা গ্রামের স্কুল শিক্ষক রেজাউল করিমের দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে ছোট মেয়ে। মীম ভাঙ্গার দিগনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
মীমের মা বিউটি বেগম মামলায় অভিযোগ করেন, তার মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে ফুফাতো ভাই পার্শ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার ছোট পাইককান্দি গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রাব্বির বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ছয় মাস আগে। কিন্তু তারা আত্মীয়ের সঙ্গে আত্মীয়তা করবেন না বলে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাব্বি তার দুই সহযোগীকে এনে মীমকে গণধর্ষণ করে। গত ২৪ আগস্ট রাতে মীম প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে গেলে রাব্বি ও তার দুই সহযোগী তাকে ধর্ষণ করে। ঘরে ফিরে সে ঘাস মারার ওষুধ ফিনিশিং পান করে। রাত আড়াইটার দিকে তাকে অসুস্থ অবস্থায় ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এর দু’দিন পর ফরিদপুরে ও পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পর গত সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বড় বোন সুমি বেগম জানান, ধর্ষণের পর মীমকে হুমকি দিয়ে রাব্বি এ ঘটনা কাউকে জানাতে নিষেধ করে। জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ঘটনার দুইদিন পর তার মীম ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ধর্ষণের কথা তার কাছে জানায়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
#বাংলানিউজ