রাঙামাটির দুই কন্যা ঋতুপর্ণা চাকমা আর রূপনা চাকমার সাফল্যে এলাকাবাসী উপহার পাচ্ছে আরও বেশি কিছু। ঋতুপর্ণার বাড়ি রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের মগাছড়ির দুর্গম গ্রামে। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে তার বাড়ি যেতে হাঁটতে হয় প্রায় তিন কিলোমিটার পথ।
বাঁশের তৈরি সাকো পাড়ি দিয়ে রূপনার বাড়ি যেতে হয়, তবে এখন ইটের তৈরি সেতু ও সড়ক দিয়েই যাওয়া যাবে তার বাড়ি, এমনটিই আশ্বাস দেন চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা। এদিকে ঋতুপর্নার বাসায় যাওয়ার পথটি পাকা করার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এই ঘোষণা দেয়ার পর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে বইছে আনন্দের বন্যা।
বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সম্প্রীতির সমাবেশে রূপনা চাকমার বাড়িতে যাওয়া সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা।
নানিয়ারচরের দূর্গম ভূইয়াআদাম গ্রামে বাঁশের সাকো পাড়ি দিয়ে সুরু মেঠো পথে কোনভাবে পায়ে হেটে গিয়ে দেখা মিললো জরাজীর্ণ একটি ঘরে দু’টি রুম। এই কুড়েঘরেই বেড়ে উঠেছেন সাফ ফুটবলজয়ী সোনার কন্যা। আরেক সাফজয়ী বাংলাদেশ দলের আরেক গর্বিত সদস্য ঋতুপর্না চাকমার বাড়ি কাউখালীর ঘাগড়া ইউনিয়নের মগাছড়ি গ্রামে। প্রায় ৩ কিলোমিটার ধান ক্ষেত, ছড়া ও পাহাড় পেরিয়ে দেখা মিললো টিনসেট একটি ঘর।
গত মঙ্গলবার রাঙামাটির জেলা প্রশাসক তাদের বাসায় উপহার নিয়ে যাওয়ার পর তাদের বাড়ির দুর্গমতা ও তাদের সংগ্রামের গল্পটি প্রথম সামনে আসে।
ঋতুপর্না চাকমা’র বড় বোন পুতলি চাকমা বলেন, আমার বাসায় আসা-যাওয়া পথটি খুবই কঠিন। ঋতু ছুটিতে যখন বাসায় আসে প্রায় ৩ কিলোমিটার পায়ে হেটে আসতে হয়। রাস্তাটি হলে ঋতুসহ এই মগাইছড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের উপকার হবে।
ঘগড়া ইউপি চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন বলেন, ঋতুপর্ণা চাকমা শুধু ঘগড়া ইউনিয়নের গর্ব না। পুরো দেশের গর্ব। ওর বাড়িতে যাওয়ার পথটি আমি দ্রুত করে দেব।
এলাকাবাসী মঙ্গলাদেবী চাকমা বলেন, একটা পাকা সেতুর অভাবে প্রায় ২শত পরিবার কষ্ট করছে। আজ রূপনার সাফল্যের জন্য এই এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা আজ সমাধানের পথে। একই সঙ্গে রূপনার জন্য নতুন ঘর হচ্ছে এতেই আমরা এলাকাবাসী খুশি।
জেলা প্রশাসক এই সময় বলেন, রূপনা ও ঋতুপর্না চাকমা পুরো জাতির গর্ব। আমরা তাকে নিয়ে গর্বিত। তার পরিবারের পাশে আমরা সবভাবেই থাকব। তাদের পরিবারে জন্য যা করার আমরা ভবিষ্যতে সব কিছুই করবো। একই সাথে তার বাড়ি যাওয়ার পথে একটি বাঁশের তৈরি সেতু রয়েছে, তার পাকা সেতু নির্মাণ ও ঋতুপর্নার বাসায় যাওয়ার পথটি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে রূপনরা জরাজীর্ণ ঘরের খবর পৌঁছে যায় সরকার প্রধানের কানেও। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশনা পেয়ে বুধবারই রূপনার বাড়িতে ছুটে যান স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি দল। শুরু হয় ঘর নির্মাণের প্রক্রিয়া।