গর্জে উঠেছে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের দেশ- ইরানের নারীরা। দেশজুড়ে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠেছে ২২ বছরের মহসা আমিনীর মৃত্যুকে ঘিরে।
তিন দশক আগেও হিজাব পরা নিয়ে তটস্থ থাকতে হত না ইরানের মেয়েদের। তাদের জীবন ছিল এখনকার চেয়ে সম্পূর্ণই আলাদা, অনেকটাই আধুনিক।
১৯৭৯ সালে রাজতন্ত্রবিরোধী বিপ্লবের সাক্ষী হয় ইরানের মানুষ। সে সময় পহলভি রাজবংশের শাসক রেজা শাহ পহলভিকে সরিয়ে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইরানের ক্ষমতায় আসে ইসলামিক রিপাবলিক সরকার।
রাজপরিবারের উৎখাতের সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টে যায় ইরানের সামাজিক পরিস্থিতি এবং রীতিনীতিও। ক্ষমতায় আসার পরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেইনি আদেশ দেন, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে দেশের সব নারীদের হিজাব পরে থাকতে হবে।
এর বিরুদ্ধে সেই সময়েও পথে নামতে দেখা গিয়েছিল সে দেশের মেয়েদের। ১৯৭৯ সালের ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন সমাজের সর্বস্তরের হাজার হাজার মহিলা খোমেনির নয়া নির্দেশের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন।
কিন্তু ইরানের ক্ষমতার হাতবদলের আগে কেমন ছিলো সে দেশে মেয়েদের সার্বিক পরিস্থিতি? হিজাব পরার পাশাপাশি, হিজাব ছাড়াও ইরানের রাস্তায় স্বচ্ছন্দে ঘুরে বেড়াতে পারতেন সেই দেশের নারীরা। পোশাক পরা ও চলাফেরার পেতেন স্বাধীনতা।
তবে সে সময়ে যে হিজাব পরা হতো না এমনটিও নয়, তবে হিজাব পরা তখন বাধ্যতামূলক ছিল না। জোর করে হিজাব পরানোর জন্য এমন নৈতিক পুলিশ ছিল না দেশটিতে।
আশির দশকের আগে ইরানের নারীরা শিক্ষা, কর্ম, খেলাধুলাসহ অনেক কিছুতেই পশ্চিমা নারীদের সমকক্ষ ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। ফুটবলসহ নানান খেলাধুলায় নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল।
১৯৭৯ সালের পর শুধু নারীদের পোশাকের ওপরেই নিয়ন্ত্রণ চাপানো হয়নি; নিয়ন্ত্রণ আরোপ হয় তাদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে, খেলাধুলায়, রাজনীতিতে, কর্মক্ষেত্রে, এমন কি ব্যক্তিগত ইচ্ছায় অনিচ্ছায়।
ইরানের রাজবংশের পতনের পর বহু বছর পেরিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরো কমেছে সে দেশের মহিলাদের সামাজিক অধিকার। তবে এই নিয়ে বিপ্লব কখনও থেমে থাকেনি। কিন্তু বিপ্লবের ফল এখনও হাতে পাননি সে দেশের নারীরা।