কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে মিম আক্তার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও অর্থাভাবে পড়াশোনা চালাতে পারছেন না। ভ্যানচালক বাবা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে ভর্তি করলেও আগামী দিনগুলো কীভাবে পার করবেন এমনই আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে পুরো পরিবার।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হয়েছেন শিলাইদহ ইউনিয়নের মাজগ্রামের ডালিম শেখের মেয়ে মিম আক্তার। তার বাবা একজন ভ্যানচালক।
শুক্রবার মিম আক্তারের বাড়িতে গেলে তিনি জানান, শিলাইদহ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ডিগ্রি কলেজ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে এইচএসসি পাশ করেছেন। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি মেঝ। তার বাবা ভ্যান চালিয়ে যে অর্থ উপার্জন করেন তা সংসার চালাতেই শেষ হয়ে যায়। অনেকবারই অর্থের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হওযার উপক্রম হয়েছে। কিন্তু তিনি শত বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে এ পর্যন্ত পৌঁছেছেন।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করা ব্যয়বহুল, শেষ পর্যন্ত কী হবে ভেবে ইতোমধ্যে তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে ভালো কোনো চাকরি করে সংসারের অভাব ঘোচাতে চান।
মিম আক্তারের বাবা ভ্যানচালক ডালিম শেখ জানান, ভার্সিটিতে ধারদেনা করে ভর্তি করেছেন। কিন্তু আগামী দিনগুলোতে কীভাবে খরচ জোগাবেন তা কোনোভাবেই হিসাব মেলাতে পারছেন না।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মণ্ডলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে তিনি মেয়েটির পড়ালেখা চালিয়ে যেতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।