মানববন্ধনে ঘোষণা দিয়েই আবার তিন দিনের কর্মবিরতিতে গেলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসরা। শনিবার (২২ অক্টোবর) বেলা পৌনে ৩টা থেকে তারা কর্মবিরতিতে গেছেন।
এর আগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হলেও এখনও হামলাকারীরা গ্রেফতার ও মামলা রেকর্ড না হওয়ায় ফের কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দেন রামেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
শনিবার দুপুরে রামেকের সামনে বিএমএ, স্বাচিপ ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের আয়োজনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। এতে তিন দিনের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন রামেক হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ইমরান হোসেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের হাতে হাসপাতালে ভাঙচুর, প্রশাসনিক কাজে বাধা, সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত করা ও কর্তব্যরত চিকিৎসকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
ইমরান হোসেন বলেন, আমরা দুই দফা দাবি নিয়ে রামেক হাসপাতালে কাজে ফিরেছিলাম।
কিন্তু ৭২ ঘণ্টা পার হলেও এখন পর্যন্ত মামলা রেকর্ড হয়নি। এমনকি কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তাই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ এই মানববন্ধন থেকেই আমরা আগামী তিন দিনের জন্য কর্মবিরতিতে যাচ্ছি। এছাড়াও কর্মদিবসের এই তিনদিন প্রতিদিন রামেক হাসপাতালে মূল গেটে অবস্থান কর্মসূচি পালন করব আমরা।
মানববন্ধনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী, রামেক অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী, ডা. খোনিলুর রহমান, ডা. আজিজুল হয় আজাদসহ রামেক হাস্পাতালের ইর্ন্টান চিকিৎসার উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রামেক হাসপাতাল থেকে মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত তারা বিক্ষভ মিছিল করেন।
গত বুধবার রাতে রাবি হলের বারান্দা থেকে পড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় রামেক হাসপাতালে ভাঙচুর চালায় রাবি শিক্ষার্থীরা। তারা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা করেন। এর পরপরই কর্মবিরতিতে যান ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
গত বৃহস্পতিবার রামেক কর্তৃপক্ষ ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের যৌথ সমঝোতা সভার পর অভিযুক্তদের গ্রেফতারে ৭২ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।