ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার অলি-গলিতে পানি জমেছে। অনেকের ঘরেও পানি ঢুকে গেছে। নিম্ন এলাকায় পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অনেকে এই ভ্যান কিংবা রিকশায় এই পানি পার হচ্ছেন। তবে পানি নিষ্কাশনে কাজ করছে ঢাকা সিটি করপোরেশন।
মঙ্গলবার হাঁটু সমান পানি মাড়িয়ে জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হন জলাবদ্ধ এলাকার মানুষ। এতে ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছেন ঘরের বাইরে আসা এসব মানুষ। কেউ আবার রিকশায় বা ভ্যানে করে পানি পার হচ্ছেন।
জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সোমবার সারাদিন এবং সরারাত প্রবল বৃষ্টি হয়। এতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান, খিলক্ষেতের নামাপাড়া, ধানমন্ডি ২৭, পূর্ব তেজতুরী বাজার, মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং, নবোদয় বাজার, হাউজিং লিমিটেড, পান্থপথ, পূর্ব রাজাবাজার, এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বকশিবাজার, লালবাগ, শংকর, শুক্রাবাদ, তল্লাবাগ, রাজাবাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবারও জলাবদ্ধতা দেখা গেছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপরের ঢাকা উদ্যান এলাকার বাসিন্দা সালেকীন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমাদের এখানে রামচন্দ্রপুর নামের একটি খাল আছে। বৃষ্টিপাতের কারণে ওই খাল ভরে রাস্তায় পানি উঠেছে। গতকাল সোমবার রাতে কোমর পানি থাকলেও এখন কিছুটা কমেছে। তবে পানি একেবারে পুরোপুরি নেমে যায়নি। ওই পানি পার হতে সাধারণ মানুষকে রিকশা পার হতে বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে। ঢাকা উদ্যানের ঢাল থেকে শিয়া মসজিদ পর্যন্ত ভ্যানে পানি পার হতে পাঁচ টাকা করে নিচ্ছে।’
রাজধানীর পান্থপথ এলাকার বাসিন্দা পুলক ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘পান্থপথ এলাকায় সোমবার রাতে পানি জমেছিল। এখন নেমে গেছে।’
লিয়াকত আলী নামে খিলক্ষেত নামাপাড়া এলাকার একজন বাসিন্দা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘গতকাল রাতে যখন বাসায় যাই তখন ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে এসেছি রিকশায় করে। আর এখন সকালে (মঙ্গলবার) কেনাকাটা করতে বাইরে গিয়ে দেখি হাঁটু পানি জমে আছে।’
তল্লাবাগের বাসিন্দা আফরিদা হিমিকা থাকেন ভবনের নিচতলায়। তিনি জানান, দিনভর বৃষ্টিতে বাড়ির সামনের সড়কে পানি জমে। রাতে রাস্তা গড়িয়ে পানি ঢুকে পড়ে তার ঘরে।
আফরিদা বলেন, ‘দরজা দিয়ে অনবরত পানি ঢুকছে। বাধ্য হয়ে মালামাল উঁচুস্থানে তুলেছি। কিছু মালামাল এরই মধ্যে নষ্ট হয়েছে। এমন একটা অবস্থা, খাটে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তো দূরের কথা ঘুমানোর জায়গাও নেই।’
ধানমণ্ডির বাসিন্দা শাহজাদী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ঘরে পানি ঢুকেছে দুপুরের পরই। বাইরে পানি, ভেতরে পানি। আমরা যাব কই?’
টানা বৃষ্টির কারণে মহাখালী, শান্তিনগর, খিলগাঁও, শ্যামপুর, উত্তরখান, মিরপুর, বনশ্রী, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদেরও ভোগান্তি নিয়ে চলতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় দেখা যায়, শিক্ষার্থী, অফিসগামী এবং কর্মজীবী মানুষরা গন্তব্যে যেতে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। গলিতে পানি জমে থাকায় মূল সড়কে আসতে তাদের রিকশায় চড়তে হচ্ছে। আর এ সুযোগে রিকশাচালকরা বেশি ভাড়া হাঁকছেন বলে অভিযোগ করেছেন রিকশা না পাওয়া কিংবা রিকশায় না আস অলি-গলির মানুষ। তাদেরকে এক হাতে ছাতা, অন্যহাতে জুতা; কেউ কেউ এক হাতে জুতা, অন্যহাতে হাঁটু পর্যন্ত কাপড় উঠিয়ে ধীরে ধীরে রাস্তা পার হতে দেখো গেছে।
জলাদ্ধতার বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসাইন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘গতকাল সোমবার রাত থেকে কাজ করছে টিম। ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলেই জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য রাত থেকেই একাধিক টিম কাজ করছে। যত গাছ পড়েছিল সব গাছই রাস্তা থেকে ভোরের মধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছেরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
#ঢাকাটাইমস