শেরপুর: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিবেশি এক দুস্থ ভূমিহীন পরিবারেরর উপর অতরকৃত হামলায় একি পরিবারের বৃদ্ধ, নারীসহ আট জনকে দা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করেছে নই মিয়া গংরা।
বৃহস্পতিবার(৩ নভেম্বর) বেলা তিনটার দিকে উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম সমদচূড়া জোড়ার পাড় গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
ভূমিহীন পরিবারের আহত সদস্যরা হলেন জালাল উদ্দিন (৬৫), তাঁর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম(৫০) মেয়ে জামেনা খাতুন (৩৩), ছেলে আঃ রশিদ, (৩৮) মনির হোসেন (২৫) এরশাদ আলী (২২) ছেলে রশিদের স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৩০) ছেলে মনির এর পাচঁ মাসের গর্ভবতী স্ত্রী মর্জিনা বেগম (২২) আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতা, দুইজনকে শেরপুর সদর হাসপাতালে স্থানানতর করা হয়েছে।অপর দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ী ফিরে গেছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, অর্পিত ছয় শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল ভূমিহীন জালাল উদ্দিন ও প্রতিবেশি নই মিয়ার মধ্যে। নই মিয়া দাবী করে আসছিল ছয় শতাংশ অর্পিত জমি জালাল উদ্দিন জোরপূর্বক ভোগদখল করছে এ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও থানায় কয়েক দফা সালিস হলেও কোন সুরাহা হয়নি।আজকে নই মিয়ার ছেলে শফিকুলের দেওয়া একটি মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য জালাল উদ্দিনসহ তার পরিবারের আটজনকে নিয়ে শেরপুরে কোর্টে থাকার সুযোগে নই মিয়া,তার ছেলে শফিকুল,সোহানসহ স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার ৩০-৪০ জন লোক নিয়ে জালাল উদ্দিনের ভোগ দখলিয় জমিতে ঘর উত্তোলন করছি,জালাল উদ্দিনরা শেরপুর কোর্টে হাজিরা দিয়ে বাড়ীতে ঢুকে ঘর উত্তোল এর কারণ জানতে চাইলে আগে থেকে জড়োকরা লোকজন নিয়ে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে জালাল উদ্দিনের পরিবারের উপর অতরকৃত হামলা চালায় নই মিয়ার লোকজন, এতে জালাল উদ্দিনসহ তার পরিবারের আটজন গুরুতর আহত হয়, পরে স্থানীয় দের সহযোগীতায় জালাল উদ্দিনের তার মেয়ের জামাতা আন্তাজ আলী তাদের কে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে আসে,পরে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক শিউলি হামলার স্বীকার রোগীদের মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও দুইজনকে শেরপুর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
ভূমিহীন জালাল উদ্দিনের ছেলে মন্জুরুল ইসলাম (২৮) বলেন, আমরা ভূমিহীন, আমাদের নিজস্ব কোন জমিজমা নেই,স্থানীয় সমসচুড়া মৌজার ২১৪ দাগের ৬ শতাংশ জমিসহ ঝোড়ার কিছু সরকারী জমিতে ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বাড়ীঘর করে বসবাস করে আসছি, নই মিয়া গংরা আমাদের বসত বাড়ী থেকে উচ্ছেদ করার জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছে,আজকে আগে থেকে ওৎপেতে থাকা নই মিয়া তার লোকজন কে নিয়ে আমার বৃদ্ধ বাবা,মা,ভাই,বোন,ও ভাবীদেরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করেছে,আমি নই মিয়া গংদের বিচার চাই।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোঃ আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।