মানিকগঞ্জ শহরে একটি আবাসিক হোটেল থেকে ৯ জন নারীসহ ১৮ জন আটক করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ওই হোটেল থেকে তাদের আটক করা হয়।
তাদের মধ্যে ৯ জন নারী ও ৯ জন পুরুষ। তাদের বয়স ১৪ থেকে ৪০ বছর বছর। এদের মধ্যে ৫ জন মেয়ে ও ৭ জন ছেলে প্রাপ্তবয়স্ক। এ ছাড়া আটক হওয়ায় ব্যক্তিদের মধ্যে ৫ জন মেয়ে ও ৫ জন ছেলে শিক্ষার্থী।
পুলিশ এবং স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ৭ তলা একটি ভবনের সপ্তম তলায় পদ্মা আবাসিক হোটেল ও ষষ্ঠ তলায় রয়েল আবাসিক হোটেল রয়েছে। এ দুটি আবাসিক হোটেলে ছোট ছোট কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়। এসব কক্ষে বিভিন্ন সময় অনৈতিক কর্মকাণ্ড হয়ে আসছে।
বেলা আড়াইটার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে জানায়- ওই ২টি আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড হচ্ছে। এর পর বিকাল ৩টার দিকে পুলিশ পদ্মা আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ওই ১৮ জনকে আটক করে। এর পর তাদের সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ব্যাপারে কথা বলতে বিকাল ৪টার দিকে পদ্মা নামের ওই আবাসিক হোটেলে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। হোটেলে ছোট ছোট কক্ষগুলোর দরজা খোলা থাকলেও কোনো খদ্দেরকে পাওয়া যায়নি। অভিযানের আগেই অন্য যৌনকর্মী ও খদ্দেরেরা পালিয়ে গেছেন বলে ওই ভবনের নিচতলার কয়েকজন ওষুধের দোকানদার জানান।
ষষ্ঠ তলায় রয়েল আবাসিক হোটেলে মালিক আমির হোসেন বলেন, ভবনের সপ্তম ও ষষ্ঠ তলা ভাড়া নিয়ে আবাসিক হোটেল করা হয়েছে। এসব হোটেলে দম্পতি ছাড়া ভাড়া দেওয়া হয় না বলে তিনি দাবি করেন।
তবে পুলিশের ১৮ জনের আটকের বিষয়ে তিনি বলেন, অনৈতিক কাজের জন্যই পুলিশ তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রউফ সরকার বলেন, অভিযানের খবর পেয়ে আবাসিক হোটেলের মালিক ও কর্মচারীরা পালিয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আবাসিক হোটেলের মালিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।