বয়স ৬০ বছর। চোখে ঝাঁপসা দেখেন। কানে কম শোনেন। আর এই কম শোনাই তার জম হলো। রেলের ঝকঝক শব্দ তার কর্ণকুহুরে পৌঁছায়নি। যে কারণে হাঁটতে হাঁটতেই চলে যেতে হলো না ফেরার দেশে।
ট্রেনে কাটা পড়ে স্বামীর কবরের পাশে ঠাঁই হলো নিলুফা ইয়াসমিনের। তিনি খুলনা জেলার খানজাহান আলী থানার জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মৃত আকবর আলীর স্ত্রী।
সোমবার দুপুরে অভয়নগরের নওয়াপাড়া পৌর এলাকার তালতলা স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে।
এলাকাবাসী জানান, নিহত বৃদ্ধা হাঁটতে হাঁটতে তালতলা এলাকায় এসে একটি বাড়িতে গিয়ে পানি পান করেন। পানি পান শেষে রেললাইনের উপর দিয়ে খুলনার দিকে হাঁটা শুরু করেন। এ সময় খুলনাগামী একটি ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত বৃদ্ধার বড় ছেলে মো. বাশার হাসান জানান, তার মা মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। তিনি কানেও কম শোনেন। নওয়াপাড়ার প্রফেসরপাড়া এলাকায় বোনের বাড়ি বেড়াতে যান। বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন।
খুলনা রেলওয়ে পুলিশের ওসি মোল্লা মো. খবির আহমেদ জানান, তালতলা স্টেশনের সামনে সোমবার দুপুরের পর নিলুফা ইয়াসমিন নামে এক বৃদ্ধা খুলনাগামী বেতনা ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছেন। তিনি খুলনা জেলার খানজাহান আলী থানার জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসিন্দা।
তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারে রেলওয়ে থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।