বিশ্বকাপ জয় থেকে আর মাত্র এক ম্যাচ দূরে লিওনেল মেসি। এই একটি মাত্র শিরোপা তার বর্ণিল ক্যারিয়ার আরও রাঙিয়ে দিতে পারে। খেতাব পেয়ে যেতে পারেন সর্বকালের সেরা ফুটবলারের। কারণ, ইতোমধ্যে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন তিনি।
এর আগে চারটি বিশ্বকাপ খেলেছেন মেসি। বিশ্বমঞ্চে বরাবরই দুর্দান্ত পারফরম করেছেন তিনি। তবে এবারের আসরে তাকে সবচেয়ে বেশি আগুনে ফর্মে দেখা গেছে।
২০২২ বিশ্বকাপে এসে আর্জেন্টিনার হয়ে সব রেকর্ড চূর্ণবিচূর্ণ করেছেন মেসি। বেশ কিছু বিশ্বরেকর্ডও তছনছ করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে দলকে একরকম একা কাঁধে টেনে ফাইনালে তুলেছেন ওয়ান্ডারম্যান।
এটিই মেসির শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। ফলে মাঠে নামার আগেই ফুটবল বোদ্ধারা বলেছেন, এবার সর্বস্ব উজাড় করে দেবেন তিনি। তবে এতটা জাদুকরী পারফরম প্রদর্শন করবেন তা হয়তো ভাবেননি কেউ।
তো কাতারে ৩৫ বছর বয়সী খেলোয়াড়ের এমন জ্বালাময়ী পারফরমের নেপথ্য কারণ কী? ক্রীড়াভিত্তিক প্রভাবশালী স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার এক প্রতিবেদনে তা পরিষ্কার করা হয়েছে।
আগের বিশ্বকাপের চেয়ে বেশি গোল
এবার এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচে ৫ গোল করেছেন মেসি। এর মধ্যে ৩টি করেছেন পেনাল্টি থেকে ভীষণ স্নায়ুচাপ নিয়ে। এতে বিশ্বমঞ্চে তার গোল সংখ্যা হয়েছে ১১টি। তাতে দেশের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে গেছেন তিনি। এতদিন ১০ গোল নিয়ে শীর্ষে থাকা স্বদেশী সাবেক গোলমেশিন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাকে পেছনে ফেলেছেন আর্জেন্টনাইন জাদুকর।
ঈর্ষণীয় পারফরম্যান্স
চলতি আসরে ঈর্ষা জাগানিয়া পারফরম করছেন মেসি। নিজে যেমন গোল করছেন, সতীর্থদের দিয়েও তেমন লক্ষ্যভেদ করাচ্ছেন। সেই সঙ্গে দুরন্ত ড্রিবলিং, ব্যাক হিল, ভলি, কাটব্যাক, কর্নার কিক, সেট পিসে প্রতিপক্ষদের বুকে ত্রাস ছড়াচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই কাতার বিশ্বকাপে সেরা ফুটবলার হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন তিনি।
অনন্য নেতৃত্ব
এ বছর মাঠে ও মাঠের বাইরে দলকে অনন্য নেতৃত্ব দিতে দেখা যাচ্ছে মেসিকে। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার সতীর্থদের কাছে সেরা অধিনায়ক হয়ে উঠেছেন তিনি। কঠিন মুহূর্তে যেমন লক্ষ্যে পৌঁছতে অবিচল থাকছেন, তেমন টিমের অন্যান্যদেরও দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ রাখছেন।
অধিক অ্যাসিস্ট
ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের ২২তম সংস্করণে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। সবশেষ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তরুণ তুর্কি জুলিয়ান আলভারেজকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
এখন পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন ভিনগ্রহের ফুটবলার। এতে ফুটবল ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে ছুঁয়ে ফেলেছেন ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে পৌঁছে যাওয়া ফুটবলার। ফাইনালি লড়াইয়ে আর একটি করতে পারলে আলবিসেলেস্তে কিংবদন্তীকে ছাড়িয়ে যাবেন তিনি।
পরিপক্বতা
আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে পরিপক্ব মেসি। প্রতি ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন তিনি। প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে আর্জেন্টিনা। সেই থেকে নিয়মিত দলের হয়ে সংবাদমাধ্যমে সামনে কথা বলছেন বর্ষীয়ান ফুটবলার। বরাবর থাকছেন শান্ত। ঠাণ্ডা মাথায় বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সবকিছু সামলাছেন ম্যাজিক ম্যান।
শারীরিক বুদ্ধিমত্তা
সম্প্রতি মেসি বলেন, আমি আর আগের মতো বলে লম্বা কিক মারতে পারি না। বলের পেছনে দৌড়াতেও পারি না। আমার বয়স ৩৫ বছর হয়ে গেছে। তাই আমাকে স্মার্ট হতে হবে। মাঠেও তাকে সেভাবেই দেখা যাচ্ছে। বেশিরভাগ সময়ই হাঁটাহাঁটি করছেন। আর সুযোগ পেলেই সদ্ব্যবহার করছেন।
জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত
ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সব শিরোপাই জিতেছেন মেসি। শুধু পারেননি বিশ্বকাপটা জিততে। এজন্য মরিয়া হয়ে আছেন তিনি। প্রতি ম্যাচেই জয়ের জন্য মুখিয়ে থাকছেন ফুটবল জাদুকর। পাশাপাশি জয় পেতে সতীর্থদেরও তাতিয়ে দিচ্ছেন।
ভক্তদের সঙ্গে সুসম্পর্ক
আর্জেন্টিনা ভক্তদের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখছেন মেসি। ফলে সমর্থকরাও তাকে অনবরত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। এতে আরও ভালো পারফরম করার রসদ পাচ্ছেন তিনি।