গুঞ্জন ছিল আগে থেকেই। শেষ পর্যন্ত গুজবই সত্যি হলো। ভারতের কাছে ঢাকা টেস্টে হারার দুদিন পর বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচের পদে ইস্তফা দিলেন রাসেল ডমিঙ্গো। গত রোববার ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্ট শেষে ডমিঙ্গো ছুটি কাটাতে দক্ষিণ আফ্রিকায় উড়াল দেন। সেখান থেকেই মেইল করে মঙ্গলবার রাতে বিসিবির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন তিনি। বিসিবি তা সানন্দে গ্রহণ করেছে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ১১ মাস আগে বিদায় নিলেন ডমিঙ্গো। এখন নতুন কোচের নাম ঘোষণার অপেক্ষা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন হোম সিরিজে টি ২০ দল সামলাবেন শ্রীধরন শ্রীরাম। যিনি বাংলাদেশ দলের টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট ছিলেন। আর ওডিআই ও টেস্ট দলের কোচ হিসাবে ফিরিয়ে আনা হতে পারে চন্ডিকা হাথুরুসিংহকে। যিনি ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের কোচ ছিলেন। হাথুরু বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগের একটি দলের কোচ।
বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বুধবার বলেন, ‘ডমিঙ্গো পদত্যাগ করেছেন। গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে সিইও’র কাছে ই-মেইলে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা আমাদের জানিয়েছেন। তবে পদত্যাগ করার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বলেননি। তিনি বোর্ডকে ধন্যবাদ এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।’ জালাল ইউনুস বলেন, ‘কিছুদিন ধরে তার সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছিল। তিনি হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন একটা পরিবর্তন আসছে। এজন্যই হয়তো নিজে থেকে সরে গেছেন। তবে মেইলে সেসব কোনো কথা বলেননি তিনি।’
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোনো কোচই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিদায় নিতে পারেননি। ডমিঙ্গোর বেলায়ও তার ব্যত্যয় হয়নি। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ হিসাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান। ২০২১ সালে তার চুক্তি আরও দুই বছর বাড়ানো হয়। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত ছিল তার মেয়াদ। ডমিঙ্গোর অধীনে বাংলাদেশ ২২ টেস্ট, ৫৯ টি ২০ এবং ৩০টি ওয়ানডে খেলেছে। তিনটি টেস্ট জিতেছে, দুটি ড্র হয়েছে। এছাড়া ২১টি ওয়ানডে ও ২৩টি টি ২০ ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ।
বেশ কিছুদিন ধরে ডমিঙ্গোর কাজে অখুশি ছিল বিসিবি। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান এবং কোনো কোনো পরিচালকের কথায় সেটা ফুটে উঠেছে। তাকে দিয়ে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় টি ২০ ফরম্যাটের জন্য আলাদা কনসালট্যান্ট নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি।
এদিকে গুঞ্জন রয়েছে সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহকে আবার ফেরাতে পারে বিসিবি। তবে জালাল ইউনুস এ ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু জানাননি। তিনি বলেন, ‘কাকে নিচ্ছি সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। আগামী মাসের মধ্যে নতুন কোচ নেব। ইংল্যান্ড সিরিজের আগে তো অবশ্যই।’ তিনি বলেন, ‘কয়েকজনের সঙ্গেই কথা হচ্ছে। বিসিবি সভাপতিও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। চূড়ান্ত হওয়ার আগে তাদের নাম বলা যাচ্ছে না। মার্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের আগে শ্রীরাম টি ২০ দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন। তার আগে আশা করি নতুন কোচও চলে আসবে। দুজনের সঙ্গে আলোচনা করেই দায়িত্ব ভাগ করা হবে।’
বাংলাদেশ দলের কোচ দুজন করে থাকবেন। একজন ওয়ানডে ও টেস্টের জন্য আরেকজন টি ২০ ফরম্যাটের জন্য। এছাড়া একজন পারফরম্যান্স ম্যানেজারও নিয়োগ দেবে বিসিবি। জালাল ইউনুস বলেন, ‘আমাদের আলাদা দুজন কোচ থাকবেন। একজন টেস্ট ও ওয়ানডের জন্য। আরেকজন টি ২০ সামলাবেন। কোচিং সিস্টেমকে একটা লাইনে আনার জন্য একজন পারফরম্যান্স ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটের সব অবস্থা জানিয়ে পথ দেখাবেন।’
আগামী দুই মাসে বাংলাদেশের কোনো আন্তর্জাতিক সিরিজ নেই। জানুয়ারিতে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। এরপর ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে আসবে ইংল্যান্ড। বাংলাদেশ সফরে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি ২০ খেলবে তারা। সিরিজ শুরু হবে ১ মার্চ।