এক মাস কারাভোগের পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় তারা কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় দুই পরিবারের সদস্যরা তাদের বরণ করে নেন।
এরপর কারা ফটকে আসলে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মীরা তাদের বহনকারী গাড়িকে ঘিরে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। সামনের গাড়িতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও পেছনের গাড়িতে ছিলেন মির্জা আব্বাস। দুই নেতা হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান।
এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, শত অত্যাচার নির্যাতন করেও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমানো যাবে না। জনগণের অংশগ্রহণে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা হবে। অসংখ্য নেতাকর্মী কারাগারে আটক রয়েছেন। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি করছি।
মির্জা আব্বাস বলেন, আজকে আমাদের মুক্তি দেওয়া আনন্দের ব্যাপার। তবে জেলখানায় আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী বন্দি আছেন। তাদের দুঃখ-দুর্দশা আপনাদের বর্ণনা করতে পারব না। সরকারের প্রতি আহ্বান তাদের প্রতি একটু সদয় হোন। এরা চোর ডাকাত না, এরা রাজবন্দি।
এর আগে বিকাল সোয়া ৪টার দিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাসের জামিননামা কারাগারে পৌঁছায়। জামিননামা যাচাই-বাছাই শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে কারাগার থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
এদিকে বিএনপির শীর্ষ দুই নেতার মুক্তির খবরে দুপুর থেকেই কারা ফটকে উপস্থিত হতে থাকেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কারা কর্তৃপক্ষকে দেখা যায় বাড়তি নিরাপত্তা বলয় নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে। অন্যান্য সময় কারাগার চত্বরে প্রবেশ করা গেলেও সোমবার ছিল বেশ কড়াকড়ি। অনুমতি ছাড়া কাউকে কারাগার চত্বরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এ সময় মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস কারাগার চত্বরে প্রবেশ করতে চাইলে কারাফটকে তার গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। এ নিয়ে দলটির কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কারারক্ষীদের বাদানুবাদ হয়। পরে তাকে কারা চত্বরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
গত বছরের ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত হন এবং পুলিশসহ অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন।
সংঘর্ষের পর রাতে বিএনপির কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। পরদিন পল্টন, মতিঝিল, রমনা ও শাহজাহানপুর থানায় পৃথক চারটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। এতে বিএনপির দুই হাজার ৯৭৫ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে নাম উল্লেখ করা হয়েছে ৭২৫ জনের। সেখানে মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসের নাম ছিল না।
৮ ডিসেম্বর গভীর রাতে নিজ নিজ বাসা থেকে ফখরুল ও আব্বাসকে তুলে আনে ডিবি পুলিশ। দুজনকে প্রথমে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন তাদের পল্টন থানার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।