দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম কেনার জন্য সরকার তড়িঘরি করে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণ-অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর।
আর ছয় মাস ‘সরকারের আয়ু’ আছে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, বিরোধী দলগুলো যেভাবে রাজপথে আন্দোলনে নেমে গেছে, এভাবে আন্দোলন করতে পারলে শিগগিরই সরকারের পতন হবে। এ সরকার সংবিধানকে কেটে ছিঁড়ে গণবিরোধী সংবিধানে পরিণত করেছে। এ সংবিধান দিয়ে দেশ চলবে না। দেশ-জাতির প্রয়োজনে নতুন সংবিধান রচনা করতে হবে।
শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ইসরায়েল থেকে ফোনে আড়িপাতার যন্ত্রপাতি ক্রয়, গোয়েন্দা নজরদারির নামে নাগরিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হরণ, মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত রাজবন্দীদের মুক্তি, বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের’ দাবিতে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
নুর বলেন, ‘এই সরকারের আয়ু ছয় মাস। কাজেই সরকারি দলের নেতাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ভালোভাবে সেইফ এক্সিট নেবে নাকি গণরোষে নিষ্ঠুরভাবে বিদায় নেবে।’
ডাকসুর সাবেক ভিপি আরও বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমলেও সরকার দেশে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতে ইভিএমের টাকার জন্য তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। সরকার চাইলেও ১৪ এবং ১৮ সালের মতো আর বিনা ভোটের নির্বাচন করতে পারবে না।
নুরুল হক নুর বলেন, আওয়ামী লীগের গুজব এবং অপপ্রচার সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে বিরোধী দলকে নিয়ে গুজব ছড়াবে। জনগণকে বলবো গুজব এবং অপ্রচারের কান দেবেন না।
ডাকসুর সাবেক ভিপি বলেন, সাংবাদিক ভাই ও মিডিয়ার মালিকদের বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করব আপনারা মানুষের ব্যক্তিগত ফোন আলাপ টেলিভিশনে প্রচার করবেন না। সরকার ক্ষমতায় থাকতে নানা ষড়যন্ত্র ও নীলনকশা নিয়ে এগোচ্ছে। ১৪-১৫ সালের মতো সরকার অগ্নিসংযোগ করে বিরোধীদের ওপর দায় চাপাতে চায়। এমনকি তারা বিরোধীদের ফাঁসাতে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ওপরও হামলা করতে পারে। তাই প্রশাসনকে বলব আপনারা অবৈধ সরকার সঙ্গ ছেড়ে জনগণের সঙ্গে থাকেন।
বিরোধী দলগুলোকে সরকার পতনের আন্দোলন রাজপথে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়ে নুর বলেন, যারা গোপনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ও সুবিধা নিয়ে আতাত করছে তারা জাতীয় বেঈমান হিসেবে চিহ্নিত হবে।
গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার ১৪ বছরে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে ১৩ বার। আবার বলে কুইক রেন্টালের দুর্নীতি নিয়ে কথা কইলে বিদ্যুৎ কেটে দেবে বলে সরকার হুমকি দিচ্ছে। জনগণের ভ্যাট ট্যাক্সের রক্তের ঘাম শ্রমের টাকায় পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বিদ্যুৎ প্লান্ট করে নিজেদের সম্পদ দাবি করে। এখন আর বিইআরসি – বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে লাগছে না, আইন করেছে নির্বাহী আদেশেই ৫ শতাংশ দাম বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সরকারের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটালো। এই সরকার ভুয়া, ভোটচোর সরকার। তড়িঘড়ি করে ৮৭১১ কোটি টাকা ব্যয় করে ইভিএম কিনবে। কারণ এই সরকারের বাঁচার জন্য ইভিএম ছাড়া রক্ষা নাই। এই ভোটচোরের ভ্যাকসিন হলো গণআন্দোলন।’
গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান খানের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, আবু হানিফ, মো. সোহরাব হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, শাকিলজ্জামান, মালেক ফরাজী, সহকারী আহ্বায়ক তামান্না ফেরদৌস শিখা, যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রহমান, গণঅধিকার পরিষদের মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব ইসমাইল, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদিব প্রমুখ।