‘বাঁচতে চাই, বাঁচতে দিন, আমাদের থানায় আশ্রয় দিন’, এমন আকুতিমাখা ব্যানার নিয়ে ভ্যান গাড়িতে চড়ে হাসপাতাল থেকে থানায় আশ্রয় নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলায় আহত বাংলা টিভির সাংবাদিক সোহেল কিরণ। এ সময় সাংবাদিক কিরণের পরিবারের সদস্যরাও থানায় আশ্রয় নেন।
খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবির হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়ে আহত সাংবাদিক সোহেল কিরণকে হাসপাতালে ফেরত পাঠান। শনিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে রূপগঞ্জ থানা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত ৩ এপ্রিল সাংবাদিক সোহেলকে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কলি বাহিনীর সদস্য সন্ত্রাসী আফজাল ও তার সহযোগীরা কুপিয়ে আহত করে। ঘটনার পরদিন কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি গোলাম রসুল কলিকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন সোহেলের ছোট ভাই সাংবাদিক সাহেল মাহমুদ। তবে ঘটনার সাতদিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ আসামিদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এতে তার পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পাশাপাশি মামলা তুলে নিতে সাংবাদিকের পরিবারকে হুমকিও দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থানায় আশ্রয় নেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক সোহেল কিরণ।
রূপগঞ্জ থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থানকালে আহত সাংবাদিক সোহেল কিরণের বাবা আব্দুল হান্নান জানান, সংবাদ প্রকাশের জেরে স্থানীয় কলি বাহিনীর লালিত সন্ত্রাসী আফজাল ধারালো অস্ত্র ও ভাঙা কাঁচ দিয়ে উপর্যুপরী আঘাত করে সোহেল কিরণকে গুরতর জখম করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সোহেল কিরণকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত সাতদিন ধরে সোহেল সেখানে চিকিৎসাধীন। তবে শুক্রবার থেকে আসামিপক্ষের লোকজন মামলা তুলে নেয়ার জন্য তার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। ছেলের নিরাপত্তা চেয়ে রোবববার দুপুরে বাবা আবদুল হান্নান আহত সোহেল কিরণসহ তার মা, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে রূপগঞ্জ থানায় অবস্থান নেন। সোহেলের বাবা নিজে ভ্যান গাড়ি চালিয়ে আহত ছেলেকে থানায় নিয়ে যান এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতাসহ ন্যায়বিচার ও নিজেদের নিরাপত্তা দাবি করেন।
তিনি বলেন, কোনো উপায় না দেখে বাধ্য হয়ে আমরা থানায় এসে আশ্রয় চেয়েছি। মামলা তুলে নিতে সন্ত্রাসীরা ক্রমাগত আমাদের হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু আমরা ন্যায়বিচার চাই।
এ ঘটনার খবর খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) আবির হোসেন থানায় গিয়ে আহত সাংবাদিক সোহেল কিরণ ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। একইসঙ্গে সোহেলের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। পরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে সোহেলকে হাসপাতালে ফেরত পাঠান।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘জেলা পুলিশ সুপার এই ঘটনাকে অনেক গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। আসামিরা যেখানেই পালিয়ে থাকুক আমরা তাদের গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করব।’
# সময় সংবাদ