ময়মনসিংহে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি মো. মোখলেছুর রহমান ওরফে তারাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বুধবার সকালে নগরীর ধোপাখোলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার বিকালে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানান র্যাব-১৪ ময়মনসিংহ সদর দপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন।
মোখলেছুর শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার ৬নং ওয়ার্ডের কুর্শা বাদাগৈর এলাকার মৃত ময়েজ উদ্দিন আহম্মদের ছেলে।
র্যাব জানায়, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শেরপুরের নকলা উপজেলার নকলা হাইস্কুলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা মোখলেছুর রহমানসহ কতিপয় রাজাকারের সহায়তায় ক্যাম্প স্থাপন করে। তারার নেতৃত্বে কতিপয় রাজাকাররা নকলা গ্রামের সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে ওই ক্যাম্পের পাকিস্তানি আর্মিদের বাংকার, বন্দিশালা, টর্চারসেল তৈরির কাজে জোরপূর্বক বাধ্য করত। তার নেতৃত্বে নিরীহ গ্রামবাসীদের ধরে নিয়ে ওই বন্দিশালায় অমানবিক নির্যাতন ও হত্যা করা হতো।
১৯৭১ সালের ২১ জুলাই রাতে রাজাকার তারার নেতৃত্বে শেরপুরের নকলা বিবিরচর গ্রাম থেকে সোহরাব উদ্দিন ও তার শ্যালক কুদ্দুস এবং কুদ্দুসের চাচাতো ভাই মোবারক আলীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে তাদের হত্যাসহ বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দেয়। ২৭ আগস্ট বিকালে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মো. শাহজাহান আলী সাজু নামাজ শেষে নকলা বাজারের দিকে আসার পথে রাজাকার তারার নেতৃত্বে তাকে জোরপূর্বক নকলা স্কুলে টর্চারসেলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ একটি মামলা হয়। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও লুটপাটসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার তদন্ত কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। এ ধারাবাহিকতায় র্যাব গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নগরীর ধোপাখোলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে শেরপুর জেলার নকলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।