খুব চতুর ছটফটে স্বভারের একটি লাল ষাঁড় নিয়ে ক্ষেতের আইলে ঘাস খাওয়াচ্ছেন কৃষক আবদুল ফালান মিয়া। গরুটি দুষ্টামি করে কখনো পাশের ক্ষেতের সবজিতে মুখ বাড়িয়ে দিচ্ছে। নয়তো এক লাফে নেমে পড়ছে ক্ষেতে। কৃষক ফালানের গোয়ালে আরও কয়েকটা গরু থাকলেও, তার যত ভালোবাসা এ ষাঁড়টিকে ঘিরেই। শিশুর মত আদর করে বড় করছেন। দেখতে বাছুরের মতই। ষাঁড়টির বয়স দুই বছর পার হলেও বাড়েনি শরীর, ওজন ৩২ কেজি।
এমনি একটি বামন ষাঁড়ের সন্ধান মিলেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের টানভিটিপাড়া (গোলাঘাট) গ্রামে। এ গ্রামের দিন মজুর কৃষক আবদুল ফালানের গোয়ালে ষাঁড়টির জন্ম। তবে প্রাপ্ত বয়স্ক হলেও ষাঁড়টির শরীর বাড়েনি, এমনকি বাড়েনি উচ্চতাও। অদ্ভুত এই গরুটি দেখতে প্রতিদিন মানুষ আসছেন কৃষক ফালানের বাড়িতে। তুলছেন ছবি, করছেন ভিডিও। মানুষের এমন আগ্রহে তার পরিবারে ভিন্ন আনন্দ বিরাজ করছে।
কৃষক পরিবারটির দাবি, এক বছর বয়স হলেও গরুটি বড় না হওয়াতে তাদের বিস্ময় তৈরি হয়। এক সময় ফালানের ছোট ছেলে যত্ন করে ষাঁড়টির (তখন বাছুর) নাম রাখে লাল জ্যাক। তারা বলছেন, জ্যাকের বয়স বাড়লেও শরীর বাড়ছে না , বাড়ছে না ওজন -উচ্চতাও। তবুও তাদের আদর এ বামন আকৃতির ষাঁড় জ্যাককে ঘিরেই।
কৃষক আবদুল ফালান জানান, দুই বছরের বেশি সময় আগে তাদের বাড়িতে বেড়ে ওঠা একটি গাভির ঘরেই জন্ম হয় এ ষাঁড় বাছুরটির। এ গরুটি (ষাঁড় লাল জ্যাক) জন্মের সময় খুব ছোট আকারের হয়েছিল। পরে বোতলে করে দিনে কয়েকবার দুধ খাওয়াতে হয়েছে। যত্নে যত্নে দুই বছর পার হল। এখন নিয়মিত দানাদার খাদ্য,ঘাসসহ সব খাবারই খেতে পারে। পর্যাপ্ত খাবার খেলেও ষাঁড়টির শরীরের তেমন পরিবর্তন হচ্ছেনা। এখন দুই বছরের বেশি হলেও বামনই রয়ে গেছে এটি।
এলাকাবাসি জানায়, এর আগে শ্রীপুরের হায়াতখার চালা গ্রামে আবুল কাশেম নামে এক কৃষকের গাভীর ঘরে টুনটুনি নামে ছোট্ট একটি গরুর বকনা বাছুর ছিল দেড় বছরের। সেটি দেড় বছরে বাইশ তেইশ ইঞ্চি উচ্চতার হয়েছিল। কিন্তু আমাদের এ গরুটি দুই বছরেরও বেশি বয়স আর উচ্চতা বাইশ তেইশ ইঞ্চি। তাতে আমরা মনে করি, বয়সের বিচারে এটি সবচেয়ে ছোট গরু।
কৃষক ফালানের ছেলে মেহেদি হাসান জানান, আমাদের লাল জ্যাকের (ষাঁড় গরু) ওজন ৩২ কেজি, উচ্চতা ২৩ ইঞ্চি আর লম্বায় ২৯ ইঞ্চি। জন্মের সময় বাছুরটি ছোট্ট খরগোশের বাচ্চার মত হয়েছিল। এটি জন্মের সময় লাল রঙের ছিল আর কপালে সাদা রঙ (চাঁদ কপাল) ছিল। অনেকে ছোট্ট এ বাছুরটিকে ফেলে দিতে বলেছিল। কিন্তু আম্মা রাজি হয়নি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. একে এম আতিকুর রহমান দেশ রূপান্তকে বলেন, গরু সাধারণত দেড় থেকে দুই বছরে প্রাপ্ত বয়স্ক হয়। এ ষাঁড়টির বয়স দুই বছরের বেশি হলে, এটি প্রাপ্ত বয়স্ক হয়েছে। এটা খুবই বিরল ঘটনা। তবে জেনেটিক কারণেও এমনটি হয়ে থাকে। তিনি দাবি করেন, রেকর্ড তৈরিতে লিঙ্গ নির্ণয় যদি কোনো পার্থক্য গড়ে তাহলে এটি ষাঁড় গরু (পুরুষ) হিসাবে দেশের সবচেয়ে ছোট গরু হতে পারে। গরুটি দেখতে ওই কৃষকের বাড়িতে যাব। আমরা দ্রুত খোঁজ খবর নিয়ে তথ্যউপাত্ত যাচাই বাছাই করে আরও বিস্তারিত জানাতে পারব।