পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। পাশাপাশি কারাবন্দি নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি, আদালত থেকে জামিন হওয়ার পর মামলা স্থগিত করা ও নতুন মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো থেকে বিরত থাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২৭ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় এ আহ্বান জানান সংগঠনটির আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান।
শুভেচ্ছা বার্তায় তারা বলেন, কোরবানির ঐতিহাসিক শিক্ষা ও তাৎপর্য নিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা সমাগত। ঈদুল আজহা আমাদের ত্যাগ ও কোরবানির আদর্শে উজ্জীবিত করে। এবারের ঈদুল আজহায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তারা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
তবে নেতাকর্মীরা কারাবন্দি থাকায় হেফাজতের দুই শীর্ষ নেতা বলেন, দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে মিথ্যা মামলায় আমাদের নেতারা কারাগারে বন্দি আছেন। অতি সাধারণ মামলায় তাদেরকে এত দীর্ঘ সময় অন্যায়ভাবে বন্দি রাখা হয়েছে। আদালত থেকে জামিন হওয়ার পরও তাদের মুক্তির পথ রুদ্ধ করতে কখনো কখনো জামিন স্টে করা হচ্ছে।
তারা বলেন, কখনো নতুন মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানো হচ্ছে। কখনো জেলগেট থেকে আবারও নতুন মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এসব হয়রানি কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না।
তারা আরও বলেন, মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি মুনির হুসাইন কাসেমী, মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী, মুফতি নূর হুসাইন নূরানী, মুফতি মাহমুদুল হাসান গুনবীসহ সব আলেমের জামিন পাওয়া সাংবিধানিক অধিকার। আজ তাদের মুক্তির পথ রুদ্ধ করার মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, আইনের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। মুফতি মুনির হুসাইন কাসেমীর জামিন স্টে এবং মুফতি নূর হুসাইন নূরানী জামিন পাওয়ার পরও মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার- ৮ (৪) ২০২১ ) একটি পুরনো মামলায় নতুনভাবে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। যা চরম অমানবিক। আমরা এ ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। এগুলো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
নেতারা বলেন, আমরা কারাবন্দি আলেমদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে এবং আদালত থেকে জামিন হওয়ার পর মামলা স্থগিত করা ও নতুন মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো থেকে বিরত থাকতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।