রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মেধাবী শিক্ষার্থী সায়মা আরভী ইভার আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় তার স্বামী নাজমুল মাহমুদ পলাশকে (৩০) গ্রেফতার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার চিটাগাং রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পলাশের বাড়ি পবা উপজেলার দেবেরপাড়া গ্রামে।
র্যাব-৫ রাজশাহীর সিপিএসসি এবং নারায়ণগঞ্জের র্যাব-১১ এর সদর কোম্পানি যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।
বুধবার বিকালে র্যাব-৫ রাজশাহীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাবির চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষার্থী ছিলেন সায়মা আরবী ইভা। মাস্টার্স পরীক্ষায় তিনি তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। গত ১৪ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে শাওন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
পরদিন বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানের জন্য নগরীর লক্ষীপুর এলাকার একটি পার্লারে যান সায়মা। ফেরার পথে সাবেক প্রেমিক নাজমুল মাহমুদ পলাশ তাকে অপহরণ করে। পরে তাকে জোর করে ওই রাতেই বিয়ে করেন তিনি। রাতেই সায়মাকে তার বাড়িতে ফেলে রেখে যায়। ইভার পরিবার ব্যাপারটি জানতে পেরে এই বিয়ে মেনে নেন এবং আগের বিয়ে ভেঙে দেন কিন্তু আসামি পলাশ পরে ইভাকে আর গ্রহণ করতে রাজি হননি। ফলে ইভা ও তার পরিবার সামাজিকভাবে হেয়-প্রতিপন্নের শিকার হন। মেধাবী শিক্ষার্থী ইভা এ অপমান সহ্য করতে না পেরে ১৯ জানুয়ারি রাতে তার বাবার হাইপার টেনশনের ওষুধ অতিমাত্রায় সেবন করেন। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জানুয়ারি ভোরে তিনি মারা যান।
এ নিয়ে ইভার মামা আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলার তদন্তভার দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। পিবিআই তদন্ত করে ছয়জন আসামির নামে অভিযোগপত্র দেয়। গত ৩ জুলাই রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর পাঁচ আসামি জামিন নিলেও পলাশ পলাতক ছিলেন।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারের পর পলাশকে রাতেই রাজশাহী আনা হয়। এরপর তাকে কর্ণহার থানায় সোপর্দ করা হয়। বুধবার তাকে আদালতে তোলে পুলিশ। এ সময় আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।