রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা মামলায় বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন স্তরের সাতজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ডিবি ওয়ারী বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, সালাহ উদ্দিন আহমেদসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের সাতজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২৯ জুলাই মাতুয়াইলে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও পোড়ানোর চার মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকদিন আগে পুলিশের অনুমতি ছাড়া ঢাকার প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপির নেতাকর্মীরা ওপর হামলা করেছে। তিনটি বাসে আগুন লাগিয়েছে। এ ঘটনায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় চারটি মামলা রুজু হয়েছে। সেই দুটি মামলায় এক নম্বর আসামি হচ্ছেন সালাউদ্দিন। বাকি দুটি মামলায়ও তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। সেই কারণে ডিবি ওয়ারী বিভাগ তাকে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে দুপুরে সালাহ উদ্দিন আহমেদের ছেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে আদালতে হাজিরা দিয়ে বাসায় ফেরার পথে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী (হানিফ উড়ালসড়ক সড়ক) থেকে তার বাবাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে।
এদিকে, বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা দাবি করেছেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালত থেকে ফেরার পথে সালাহ উদ্দিন আহমেদ ছাড়া আরও ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিএনপিপন্থি আইনজীবী রোকনুজ্জামান সুজা এমন দাবি করে জাগো নিউজকে জানান, বৃহস্পতিবার আগাম জামিন নিতে উচ্চ আদালতে যান সালাহ উদ্দিন। সেখান থেকে ফেরার পথে সালাহ উদ্দিনসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়।
তাদের সঙ্গে থাকা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির নেতা ও যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান ভান্ডারি জাগো নিউজকে বলেন, এদিন সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে আগাম জামিন নিতে আদালতে যান- ৬২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্যসচিব মো. শাহীন, একই ওয়ার্ডের বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহআলম মুন্সী, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আবির হোসেন মনির, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. নিয়ামুল হক, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য মো. নয়ন ও সালাহউদ্দিনের গাড়িচালক মো. কাজল।