নদী দখল দূষণের ব্যাপারে অবগত করণ ও নদী সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সেপ্টেম্বর মাসের চতুর্থ রবিবার বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব নদী দিবস। কানাডার নদী-রক্ষা আন্দোলনকর্মী মার্ক অ্যাঞ্জেলোর মাধ্যমে এই দিবসটির ধারণা আসে এবং ২০০৫ সালে জাতীসংঘের দাপ্তরিক স্বীকৃতির মাধ্যমে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব নদী দিবস।

বাংলাদেশে নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে ঘোষণা করে আইন পাশ হলেও নদী দূষন ও দখলের সংস্কৃতি হতে মানুষকে নিবৃত করা যাচ্ছে না। সারাদেশে বহু নদ-নদী বর্তমানে বিলুপ্ত ও বাকি নদীগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নদী রক্ষায় নিয়োজিত খোদ সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যথেষ্ট দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

এমতাবস্থায়, প্রতি বছর বাংলাদেশে নদী রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সেপ্টেম্বরের চতুর্থ রবিবার বিশ্ব নদী দিবসে বিভিন্ন সংগঠন নানা ধরণের কর্মসূচী পালন করে থাকে। যার অংশ হিসেবে, স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনগুলোকে সাথে নিয়ে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ আজ ২৪ সেপ্টেম্বর, রবিবার সকালে সারাদেশে ঢাকাসহ মোট ১২ টি স্থানে একযোগে বিশ্ব নদী দিবস পালনে বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করে। কক্সবাজারে সদর, পেকুয়া, তালতলী, মহেশখালি, মোংলা, কুতুবদিয়া, কলাপাড়া, পাথরঘাটা, বরগুনা সদর, পাইকগাছা ও বরিশাল সদরে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও র্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করেছে।

ঢাকায় সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে “নদী একটি জীবন্ত সত্তা” নামক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অন্যান্য সংগঠনের সাথে যৌথভাবে এই সেমিনারটির আয়োজন করে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ যাতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দ রেজওয়ানা হাসান; নোঙর ট্রাস্ট বাংলাদেশ‘র চেয়ারম্যান সুমন শামস; রিভার এন্ড ডেলটা রিসার্চ সেন্টার‘র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ; নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান ইবনুল সাঈদ রানা প্রমুখ।

এছাড়াও, কর্মসূচীর অংশ হিসেবে, গতকাল ২৩ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টায় ঢাকার সেগুনবাগিচার কেন্দ্রীয় কচিকাচার মেলায় নাগরিক সংলাপ ও শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অনুষ্ঠানের অতিথিদের মধ্যে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেছেন, ’নতুন প্রজন্মকে নদী সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। তারা যাতে নদীকে ভালোবাসে। আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নদীকে রক্ষা করতে হবে। নদী রক্ষা না করলে যতই উন্নয়ন করি, তা টেকসই হবে না।’
ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের উদ্যোগে আজ সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় এ কর্মসূচীতে উপস্থিত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, নদী ও পরিবেশ সংগঠক এবং সাধারণ জনগণ নদী রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান।