কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এর সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ ও তার স্ত্রী খন্দকার নুরুন নাহার লোটাসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে দুদকের কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ে সংস্থার সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা বাদী হয়ে দুজনকে আসামি করে মামলাটি করেন।
মামলার বিষয়ে দুদকের কুমিল্লা অফিসের সিনিয়র সহকারী পরিচালক রাফী মো. নাজমুস্ সাদাৎ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, দুই কোটি ২১ লাখ ৭২৯৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ আসামি শাহজাহান আহমেদ ও তার স্ত্রী আসামি খন্দকার নুরুন নাহার লোটাসের নামে একে অপরের সহযোগিতায় অবৈধ পন্থায় অর্জন করে ভোগদখলে রাখেন।
দুদকের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তা ভোগ দখলে রাখার অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তদন্তকালে তাদের আরও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেলে তা মামলায় অর্ন্তভুক্ত করা হবে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শাহজাহান আহমেদ নিজ ৭২ লাখ নয় হাজার ২২২ টাকা ও তার স্ত্রী খন্দকার নুরুন নাহার লোটাসের নামে এক কোটি ৪৮ লাখ ৯৮ হাজার ৭৩ টাকাসহ মোট দুই কোটি ২১ লাখ সাত হাজার ২৯৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক।
শাহজাহান আহমেদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও পারিবারিক ব্যয় ও পরিশোধিত কর বাবদ এক কোটি ৩০ লাখ ১৯ হাজার ২৬৩ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। এর বিপরীতে তার বৈধ আয় পাওয়া যায় ৫৮ লাখ ১০ হাজার ৪১ টাকা। অর্থাৎ আয়ের উৎসের চেয়ে ৭২ লাখ ৯ হাজার ২২২ টাকা বেশি সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।
অপরদিকে দুদকের অনুসন্ধানে আসামি শাহজাহান আহমেদের স্ত্রী খন্দকার নুরুন নাহার লোটাসের নিজ নামে দুই কোটি ৩৪ লাখ ২৩ হাজার ১১৬ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। দুদকের অনুসন্ধানে তার পারিবারিক ব্যয়, পরিশোধিত ও অপরিশোধিত কর বাবদ ব্যয়সহ তার এক কোটি ৮৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৩ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। উক্ত সম্পদ অর্জনের বিপরীতে তার মোট আয় পাওয়া যায় ৩৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।
দুদক জানায়, খন্দকার নুরুন নাহারের মোট বৈধ আয়ের চেয়ে তার কাছে অতিরিক্ত এক কোটি ৪৮ লাখ ৯৮ হাজার ৭৩ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। দুদকের জবানবন্দীতে তিরি তার নিজের কোনো আয় নেই বলে দুদকের কাছে স্বীকার করেছেন।
শাহজাহান আহমেদ ১৯৮৭ সালে বস্ত্র অধিদপ্তরে ড্রাফটসম্যান পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯১ সালে ডেপুটি জেলার পদে আত্মীকৃত হন এবং বর্তমানে তিনি সিনিয়র জেল সুপার পদে চলতি দায়িত্বে কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি কুমিল্লা কারাগারে সিনিয়র জেলা সুপারের দায়িত্ব পালন করেন।