শেরপুর: বাবারে কি আর কইমু। আমার পুলাডাও (ছেলে) এতিম ছিলো। এহন তারা পুলাডারে মাইরা আমার নাতি দুইডারেও এতিম কইরা দিলো। এডা (একটা) নাতি দুধের বাচ্চা আর আরেডা (আরেকটা) ৫ বছর। এদের কেমনে মানুষ করুম। চোখেমুখে আন্ধ্যার (অন্ধকার) দেখতেছি। আমার সোনার পুলাডারে যারা মারলো, নাতিন দুইডারে বাপহারা করলো আমি যেন বাঁইচ্চা থাকতেই খুনিদের বিচারডা দেইক্ষা মরতে পারি। এভাবেই হাউমাউ করে কান্না করে কথাগুলো বলছিলেন প্রতিপক্ষের আঘাতে নিহত কৃষক ইসমাইলের মা রুজিনা বানু।
গত ২৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে শেরপুর সদরের ঘুঘুরাকান্দি-বেতমারী ইউনিয়নের ঘুঘুরাকান্দি উত্তর পাড়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষদের আক্রমণে মারা যান কৃষক ইসমাইল।
নিহত কৃষক ইসমাইল হোসেন ওরফে টাকি (৩২) একই গ্রামের হবি মিয়ার ছেলে।
কান্নাজড়িত কন্ঠে কৃষক ইসমাইল হোসেন ওরফে টাকি মিয়ার স্ত্রী নাসিমা বেগম (২৬) বলেন, আমার স্বামীরে যারা বল্লম দিয়া খুঁচায়া খুঁচায়া মারল, তাদের কঠিন বিচার চাই। এই বয়সেই আমাকে যারা বিধবা করল, তারা কেউ যেন কোনভাবেই ছাড় না পায়। আমার সাত মাসের দুধের শিশুকে এতিম করে দিল ওরা। আল্লাহ, তুমি খুনিদের দেইক্ষো। এই বলেই কান্না শুরু করেন নাসিমা।
এ ঘটনায় সেদিন ইসমাইলের স্ত্রী নাসিমা খাতুন সদর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও পাঁচ ছয়জনকে অজ্ঞাত নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ২৭ অক্টোবর তিনজনকে গ্রেফতার করেন। তারা হলেন ইয়ার খান, তহুর আলী ও রুবেল মিয়া।
মামলা সূত্রে জানাযায়, সদর উপজেলার ঘুঘুরাকান্দি উত্তর পাড়া গ্রামের হবি মিয়ার ছেলে কৃষক ইসমাইল হোসেন ওরফে টাকির সাথে একই গ্রামের প্রতিপক্ষ মেছতুল্লার ছেলে তহুর আলী, ইয়ার খান মিয়ার উদ্দিন ও তাদের লোকদের সাথে কৃষক ইসমাইল হোসেন টাকির ১৮ শতাংশ কৃষি জমি নিয়ে বিরোধ ও আদালতে মোকদ্দমা চলে আসছিল।
এঘটনায় আদালত ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে ১৪৪ ধারা আদেশ জারি করে। পরে গত ২৫ অক্টোবর বুধবার ১৪৪ ধারা আদেশটি আদালত খারিজ করে দেয়। এদিকে বুধবার সকালে আদালত কর্তৃক আর নিষেধাজ্ঞা না থাকায় ইসমাইল হোসেন টাকি তার জমিতে চাষ করতে যায়। এসময় ওই প্রতিপক্ষরা তাকে বাঁধা দেয়। এনিয়ে মারামারি ও ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। এরই এক পর্যায়ে ইসমাইল হোসেন ওরফে টাকির বুকে প্রতিপক্ষরা বল্লম দিয়ে আঘাত করে। আঘাতে সে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সাইদুর রহমান, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বছির আহমেদ বাদল, উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল গিয়ে নিহত ইসলাম হোসেন ওরফে টাকির মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
জানতে চাইলে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বসির আহম্মেদ বাদল বলেন, নিহত কৃষক ইসমাইলের স্ত্রী নাসিমা বেগম হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এবং দ্রুততার সাথে বিষয়টি আমলে নিয়ে পুলিশ তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।