বন কর্মকর্তা হত্যায় জড়িতদের শাস্তিসহ ৭ দাবি আরডব্লিউআরসি’র
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের উখিয়া রেঞ্জের দোছড়ি বন বিটের কর্মকর্তা সাজাদুজ্জামানের নির্মম অপহত্যায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘রিভার এন্ড ওয়াইল্ডলাইফ রিসার্চ সেন্টার (আরডব্লিউআরসি)।
একই সঙ্গে নিহতের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণসহ ৭ টি দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
পরিবেশবাদী সংগঠন ‘রিভার এন্ড ওয়াইল্ডলাইফ রিসার্চ সেন্টার (আরডব্লিউআরসি)’র নেতৃবৃন্দরা উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী মো. শফিউল আলমের বরাতে তারা বলেন, উখিয়া রাজাপালং হরিণমারা এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধভাবে পাহাড় কেটে মাটি পাচার করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচলনা করার জন্য যায় আমাদের সহকর্মী সাজ্জাদ। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে বনদস্যুরা অবৈধভাবে পাহাড় কেটে ট্রাকে মাটি উত্তোলন করছে। সেখানে থাকা মাটিভর্তি ট্রাকটিকে প্রথমে থামার সংকেত দেওয়া হয়েছিল। সংকেত অমান্য করে ট্রাকটি এগিয়ে গেলে বিট কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনসহ দুজন মোটরসাইকেলে ট্রাকটিকে ধাওয়া করেন। এক পর্যায়ে ট্রাকটির পথ আগলে দাঁড়ান সাজ্জাদ। কিন্তু চালক সাজ্জাদের ওপর দিয়েই ট্রাক চালিয়ে দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পরে ট্রাক চালক পালিয়ে যায়।
‘রিভার এন্ড ওয়াইল্ডলাইফ রিসার্চ সেন্টার (আরডব্লিউআরসি)‘র সহ সমন্বয়ক নাঈম ইসলাম বলেন, দেশজুড়ে একের পর এক বন, পাহাড় ধ্বংস ও হাতিসহ নানা বন্যপ্রাণী হত্যা ও বন উজাড় রোধে যখন কিছু সৎ নিষ্ঠাবান মানুষ কাজ করার উদ্যোগ গ্রহণ ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে যায়; তখনই তাদের নানা নির্যাতন ও হত্যার শিকার হতে হয়। এর আগে গত ২০২০ সালে মো: ইউসুফ উদ্দীন নামক মহেশখালী বন রেঞ্জ কর্মকর্তা পাহাড় ও বনখেকোর হাতে অপহত্যার শিকার হয়েছিল। সে ঘটনারও সঠিক ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার এখনও হয়নি। শেরপুরের গারো পাহাড়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউলকে বন দখলদাররা মারপিট করে। বনখেকোদের দমন করতে না পারার ক্রমাগত ব্যর্থতা এসব অপরাধীকে দুর্ধষ ও বেপরোয়া করে চলেছে যার ধারাবাহিকতায় মোঃ ইউসুফ এর পর সাজাদুজ্জামানকে আবারও অপহত্যার শিকার হতে হলো। তাই সঠিক তদন্ত করে বিাচেরর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
‘রিভার এন্ড ওয়াইল্ডলাইফ রিসার্চ সেন্টার (আরডব্লিউআরসি)’র সাত দফা দাবিসমূহ হলো——–
১) সাজাদুজ্জামানকে নির্মম হত্যকান্ডের সাথে জড়িতদের অতিসত্ত্বর গ্রেফতার করে আইনের আওয়ায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
২) ছোট্ট্র শিশুটির জন্য হলেও ইউসুফ ও সাজ্জাদুজ্জামানের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
৩)আহত বন কর্মকর্তার চিকিৎসা সকল দায়ভার নিশ্চিত করা।
৪) গারো পাহাড়ে হাতির অভয়ারণ্য দ্রুত গড়তে হবে।
৫)বনভূমি সুরক্ষায় ভূমিদস্যুদের বাড়তি ঝুঁকিতে থাকা কর্মীদের জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত ও নিরাপদ কর্মক্ষেত্র তৈরিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া
৬) গারো পাগাড় হতে বনদখলদোরদের দ্রতিআইনের আওয়া
৭)দেশের বনভূমি, পাহাড় ও নদী রক্ষায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।