নরসিংদীর মেঘনা নদীতে নৌকা ডুবে ভাই-বোন নিখোঁজের প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর আব্দুল্লাহ ইউসুফ (১২) নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দক্ষিণ চরভাসানিয়া বেড়িবাঁধের পাশ থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় এলাকাবাসী ও জেলেরা।
পরে দুপুর ১২টায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিখোঁজ জান্নাতুল আক্তার এনাকে (১৪) উদ্ধারে নদীতে অভিযান পরিচালনা করছে নৌ পুলিশ।
ভংগারচর নৌ-পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ (ওসি) অনিমেশ হালদার বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভংগারচর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) অনিমেশ হালদার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে নৌকাডুবিতে ৬ জন থেকে ৪ জন তীরে উঠে আসলেও দুই ভাই-বোন নিখোঁজ ছিল। আজ সকালে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় দক্ষিণ চরভাসানিয়া বেড়িবাঁধের পাশ থেকে ভাসমান অবস্থায় ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুর ১২টায় পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তিনি জানান, তারা ট্রলার দিয়ে না গিয়ে মাছ ধরার নৌকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। যার কারণে নৌকাটি মাঝ নদীতে গিয়ে বাতাস ও ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। আমরা স্থানীয়দের নিয়ে নদীতে ট্রলার দিয়ে অভিযান চালাচ্ছি।
নিহতের বাবা ইমতিয়াজ আলী বলেন, তার দুই সন্তান জান্নাতুল ও আব্দুল্লাহ স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসায় পড়াশোনা করত। ছেলেটির মরদেহ আজ সকালে উদ্ধার করা হয়েছে। মেয়েটিকে এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের আর কোনো ছেলে মেয়ে নেই। ওদের ছাড়া এখন কীভাবে বাঁচবেন?
নওঁগা জেলার শৈলগাছির বাসিন্দা ইমতিয়াজ আলী সপরিবারে মাধবদীর টাটাপাড়ায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। গতকাল সন্ধায় মেঘনা বাজার ঘাট থেকে পার্শ্ববর্তী চরদিঘলদীর বগারগোত এলাকায় তাদের আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময় মাঝ নদীতে ইমতিয়াজ আলী , তার স্ত্রী দিলারা বেগম, দুই সন্তান আব্দুল্লাহ ইউছুফ (১২) ও জান্নাতুল আক্তার এনাসহ (১৪) ছয়জন নিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। পরে আশপাশের ট্রলার থেকে লোকজন ইমতিয়াজ, দিলারা বেগম, আব্দুল মতিন ও রুহুলকে উদ্ধার করতে পারলেও ইউসুফ ও এনাকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরে শুক্রবার সকালে নিখোঁজের প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর দক্ষিণ চরভাসানিয়া বেড়িবাঁধের পাশ থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় এলাকাবাসী ও জেলেরা। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে জান্নাতুল আক্তার এনা নামের অপর কিশোরী।