কয়েক বছর মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে বেড়িবাঁধহীন হয়ে পড়েছে নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকা।
এতে নোয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলের হাতিয়া, সুবর্ণচর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী অংশে লাখো অরক্ষিত মানুষের দিন কাটছে চরম আতংকে। ভাঙন মোকাবেলায় অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নয়, স্থায়ী ব্লকবাঁধের দাবি ভূক্তভোগীদের।
মেঘনা নদীর উত্তরে নোয়াখালীর হাতিয়ার হরণি ও চানন্দী, সুবর্ণচরের চরক্লার্ক, মোহাম্মদপুর এবং কোম্পানীগঞ্জের চরএলাহী এবং মুছাপুর ইউনিয়ন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
প্রতিদিনই বিলিন হচ্ছে ঘরবাড়ি, বসতভিটা, ফসলী জমি, বাজার, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি নানা স্থাপনা। শুধু গত আট মাসে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। অনেকে স্থানীয় বাজার বা মসজিদে আশ্রয় নিয়েছেন।
কোথাও কোথাও যে বছর বেড়িবাঁধ নির্মাণ হচ্ছে সে বছরই আবার তা বিলিন হচ্ছে, এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। তাই বেড়িবাঁধ না দিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ব্লকবাঁধের দাবি তাদের।
এলাকাবাসী বলেন, ‘এটা খুব দ্রুত গতিতে আমাদের কাছে ভেঙে আসতেছে। বেড়িবাঁধ যতই নির্মাণ করুক না কেন ওটা নদীর বুকেই চলে যায়। তাই বেড়িবাঁধ না দিয়ে স্থায়ী ব্লকবাঁধের দাবি আমাদের।’
চরএলাহী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বলেন, সরকারের কাছ থেকে এখনো কোন কিছুই আমরা পাই নাই। উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ব্লকবাঁধ দেওয়া জরুরী।
সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, মেগা ডাইক নামে একটা প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এটা ২৫ হাজার কোটি টাকান প্রকল্প। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে প্রস্তাবিত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সমস্যার সমাধান হবে নোয়াখালী- লক্ষীপুর- ফেনীতে।
উপকূলজুড়ে ২৬০ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ১০ বছরে ৪০ কিলোমিটার বিলীন হয়েছে আরো প্রায় ৮৫ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।