যমুনা নদীর ওপর আলাদা বঙ্গবন্ধু রেলসেতু হওয়ায় উচ্ছ্বসিত উত্তরবঙ্গের মানুষ। রেলের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীসেবার মান বাড়বে বলে প্রত্যাশা সবার। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে আসবে আমূল পরিবর্তন।
১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালুর মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকার সাথে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ চালু হয়। তবে ২০০৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ফাটল দেখা দেওয়ায় কমানো হয় ট্রেনের গতি। বর্তমানে ৩৮টি ট্রেন নিয়মিত স্বল্প গতিতে পারাপার হওয়ায় সময় অপচয়ের পাশাপাশি শিডিউল বিপর্যয়ে বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি।
এক যাত্রী বলেন, সিরাজগঞ্জ থেকে আমার ঢাকায় রেলের মাধ্যমে যাই। কিন্তু রেল খুবই আস্তে আস্তে যায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ভোগান্তিতে মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে হয়েছে।
আরেকজন বলেন, এই রেলসেতু নির্মাণের মধ্য এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য একটি আমূল পরিবর্তন আসবে। এ অবস্থায় রেলসেতুটি হলে উন্মুক্ত হবে সব প্রকার পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল। ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, উত্তরবঙ্গের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।
আর রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই রেলসেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা হবে।
২০১৬ সালে যমুনা নদীতে বর্তমান সেতুর পাশে উত্তরেই ৩০০ মিটার উজানে একটি বিশেষায়িত রেলসেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে সরকার। ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার এ ডুয়েলগেজ এর ডাবল ট্র্যাকের সেতুটি নির্মাণ করা হবে শুধু ট্রেন চলাচলের জন্য।
জাপান এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে রেলসেতু প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করবে জাইকা। ২০২৪ সাল নাগাদ এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে শুধু অভ্যন্তরীণ রেলব্যবস্থাই নয়, সার্ক বিমসটেকসহ আঞ্চলিক উপ-আঞ্চলিক এবং ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সুবিধাও পাবে দেশের মানুষ।