চলতি মাসে সব স্প্যান বসানোর মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ। ৪১টি স্প্যানের মধ্যে বাকি আছে যে দুটি, তা বসিয়ে দেওয়া হলেই দৃশ্যমান হয়ে যাবে পুরো ৬ দশমিক এক পাঁচ কিলোমিটার সেতু। এ আনন্দক্ষণে সন্তুষ্ট সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে মূল অবকাঠামো নির্মাণের। সেতুতে গাড়ি ও রেল চলাচলের জন্য উপযুক্ত করে তুলতে সামনের দিনগুলোতে গতি আসবে স্ল্যাব বসানোর কাজে।
নদীর এ মাথা থেকে শুরু করে ও মাথা, মাওয়া থেকে জাজিরা প্রান্ত। কঠিন জলরাশির বুক ছিঁড়ে রড, কংক্রিটের সমন্বয়ে জেগে উঠা ৪২ পিলারে দৃশ্যমান এখন ৩৯টি স্প্যান। যে স্প্যানগুলো বসে গেছে, তার অর্ধেকের বেশি স্প্যানে বসে গেছে রোড ও রেলস্ল্যাব।
সেতুর সবচেয়ে কঠিন কাজ সব পিলার নির্মাণের পর এবার সব স্প্যান বসানোর কাজও শেষ হতে যাচ্ছে চলতি মাসে। করোনার কারণে জুন থেকে সেপ্টেম্বর এ ৪ মাস কাজ বন্ধ থাকলেও গত দুই মাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ কাজ হয়েছে। এ সময়টায় প্রতি মাসে ৪টি করে বসেছে ৮টি স্প্যান। এর আগে কোনও মাসে সর্বোচ্চ ৩টি স্প্যান বসানোর রেকর্ড ছিল।
দুই পাড়ের সঙ্গে আগেই সেতুর সংযোগ ঘটেছে। জাজিরা প্রান্তে এখন ২৯টি টানা আর মাওয়া প্রান্তে বসানো আছে ১০টি স্প্যান। দুই প্রান্তকে জোড়া দিতে মাঝনদীতে বাকি আছে দুটি স্প্যান বসানো। সেটি বসে গেলে, বড় একটা মাইলফলক স্পর্শ করার অপেক্ষায় পদ্মা সেতু।
প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, এটা আমাদের বড় একটা মাইলস্টোন। আর যখন পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে তখনই আমাদের বড় স্বার্থকতা।
এগিয়ে আনা হচ্ছে বসে যাওয়া স্প্যানগুলোতে রোড ও রেল স্ল্যাব বসানোর কাজ। প্রায় ৩ হাজার করে স্ল্যাব বসাতে হবে।