ভাসানচরে নতুন বসতি শুরু হয়েছে মিয়ানমার থেকে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের একাংশের।
পুরো ভাসানচর ঘুমিয়ে গেছে। এককোণে এক নাগাড়ে জ্বলছে ছয়টি চুলা। জেগে আছেন রান্না তদারকির দায়িত্বে থাকা মানুষগুলো। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই ১ হাজার ৬শ ৪২ জন রোহিঙ্গাকে নাশতার যোগানের দায়িত্ব নিয়েছে এনজিওগুলো। যদিও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য- আশ্রিত মানুষগুলোকে স্বনির্ভর করে তোলা।
ভাসানচরে নিজস্ব অর্থায়নে রোহিঙ্গাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে এনজিওগুলো। এজন্য ২২ প্রতিষ্ঠান মিলে গড়ে তুলেছে এনজিও অ্যালায়েন্স অব ভাসানচর। এক লাখ রোহিঙ্গাকে এক বছরের সেবা দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ভাসানচরে কার্যক্রম শুরু করেছে তারা।
আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা তাদের জন্য সকালের মেন্যুতে রাখছি ডিম, আলু, জুম ভাত। দুপুর আর রাতের মেন্যুতে থাকবে মাংস এবং সবজি। আপাতত ৫ দিন রান্না করা খাবার খাওয়াবো। ওদের ৬ মাসের রান্নার উপকরণ, হাড়ি পাতিল দেয়া হবে। তখন আমরা নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দেবো।
শুক্রবার নতুন স্বপ্ন নিয়ে ভাসানচরে পা রাখেন প্রায় দেড় হাজার দেশ ছাড়া রোহিঙ্গা। তাদের চিকিৎসা সেবার জন্য তৈরি দুটি হাসপাতাল, প্রস্তুত হচ্ছে চারটি কমিউনিটি ক্লিনিকও। রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে কাজ করছে এনজিওগুলোও।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. আরফিন রহমান বলেন, আমরা তাদের সব ধরনের স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত। আমরা মূলত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাটা আগে নিশ্চিত করতে চাই।
রোহিঙ্গাদের আসার আগেই গত ২৯শে নভেম্বর থেকে এখানে কার্যক্রম শুরু প্রস্তুতি নেয় ২২টি প্রতিষ্ঠান। এনজিও অ্যালায়েন্স অব ভাসানচরের সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী করিম বলেন, আমাদের যা আছে সেটি নিয়েই এখানে এসেছি। কোন ডোনার যদি নাও আসে আমরা তাদেরকে সেবা দিয়ে যাবো। ২২ অফিস আমরা চালু করেছি। এক লাখ রোহিঙ্গার এক বছরের ব্যাকআপ আমরা দিতে সক্ষম। ছয় মাসেরটা অলরেডি আছে।
রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে আছে স্কুল। পাশাপাশি, উপ আনুষ্ঠানিক শিক্ষাও দেবে বেশ কটি প্রতিষ্ঠান।