নড়াইলের নড়াগাতী থানার চরসিঙ্গাতী গ্রামে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা দেয়ার অভিযোগ তুলেছে অর্ধশতাধিক পরিবার।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দুই বছর আগের একটি হত্যার দায় তাদের কাঁধে চাপিয়ে গ্রামছাড়া করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এছাড়া জায়গা-জমি দখল করে নিতেই প্রতি নিয়ত হুমকি, ভয়ভীতি প্রদান, হাট-বাজারসহ স্বাভাবিক কাজকর্মে যাতায়াত, সন্তানদের স্কুলে লেখাপড়া, এমনকি বিদ্যুৎ সংযোগ পেতেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে কার্যত অবরুদ্ধ করে রখেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি করলেও পুলিশ বলছে এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি।
শুক্রবার সরেজমিনে সংবাদকর্মীরা চরসিঙ্গাতী গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় গেলে সেখানে অভিযোগকারীরা তাদের কাছে এসে সমবেত হয়ে নিজেদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। তাদের চোখমুখে ছিল আতঙ্ক উৎকণ্ঠার ছাপ।
তারা জানান, মধুমতির ভাঙ্গনে ভিটেমাটি হারিয়ে চার দশক আগে নিজেদের আদি নিবাস সিঙ্গাতী গ্রামের বিপরীত পারের চরসিঙ্গাতী এসে বসতি গাড়েন তারা। সেই থেকে দিন ভালোই কাটছিল তাদের, কিন্তু বছর দুই আগে আসাদুজ্জামান টিটো শরীফ নামে এলাকার এক বিত্তশালী দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হলে চরম দুর্ভোগ নেমে আসে এখানকার চৌধুরী, মোল্যাসহ ৩/৪টি বংশের অন্তত অর্ধশত পরিবারে। ওই হত্যাকাণ্ডে আসামি করা হয় ৩০ জনকে। তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর বাড়িঘরে হামলা লুটপাটসহ শুরু হয় ভয়াবহ অত্যাচার। ধারাবাহিক এ নির্যাতনে গত দু’বছরে অন্তত ২০টি পরিবার বাধ্য হয় গ্রাম ছাড়তে। যারা ভিটেমাটির মায়ায় আজো পড়ে আছে, এক প্রকার অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটছে তদের।
তবে অভিযুক্ত শরিফ পক্ষের ইয়াছিন শরিফ, কওসাররা তাদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তারা দাবি করেন, চৌধুরীরা টিটো শরিফের খুনি হওয়া সত্বেও তাদের উপর অত্যাচার নির্যাতন দূরে থাক স্বাভাবিক জীবনযাপনে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হয় না।
অন্যদিকে, চরসিঙ্গাতী গ্রামে অত্যাচার নির্যাতনের কোন অভিযোগ নিয়ে কেউ কখনো আসেনি এবং সেখান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে দাবি করে নড়াগাতী থানার অফিসার ইনচার্য রোকসানা খানম বলেন, ব্যক্তি স্বাধীনতার পরিপন্থী যে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।