তাজরিন গার্মেন্টের আহত শ্রমিকদের অভিযোগ, ‘পুলিশ আমাদের বলেছে দেশের পরিস্থিতি ভালো না। এজন্য অরাজকতার ঠেকাতে আমাদের জোর করে প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তারা ৮০ দিন ধরে তিন দফা দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। রবিবার (৬ সিডেম্বর) রাতে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থানরত সব আন্দোলনকারীদের জোর করে তুলে দেয়।
সোমবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে জনসংহতি অফিসে সংবাদ সম্মেলনে তাজরিনের শ্রমিকরা এই অভিযোগ করেন। শ্রমিকদের পক্ষে জরিনা বেগম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের মৃত মনে করলেও আমরা মরিনি। যে জ্বালা গত ৮ বছর ধরে আমাদের বুকে জ্বলছে তা না নেভা পর্যন্ত আমদের এই তিন দফা দাবি আমরা ছাড়বো না। আমরা ফিরে আসবো বার বার, আমাদের মেরে ফেলার আগ পর্যন্ত। ইতিহাস সাক্ষী শ্রমিকেরই বিজয় হবে।’
জরিনা বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে পুলিশ দিয়ে পণ্ড করা হলো। আমাদের জোর করে পুলিশ দিয়ে উঠিয়ে দেওয়া হলো। পুলিশ আমাদের বলেছে দেশের পরিস্থিতি ভালো না। এজন্য অরাজকতার ঠেকাতে আমাদের জোর করে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন করতে চাই, এই যে তাজরীন অগ্নিকাণ্ডের আজ ৮ বছর পরেও আমাদের সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলো না। এর চেয়ে বড় অরাজকতা আর কী হতে পারে? এভাবে আমাদের জোরপূর্বক পুলিশ দিয়ে উঠিয়ে দেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নাই। আমরা আমাদের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তীব্র ঘৃণা জানাই। আমরা এই বিবেকহীন সরকারকে, যে সরকার শ্রমিকদের দাবিকে পাত্তাই দেয় না, যে সরকার শ্রমিকদের মানুষই মনে করে না সেই সরকারকে অভিশাপ দেই। কোনও একদিন এই দেশের মাটিতে শ্রমিকদের সঙ্গে করা সব জুলুমের বিচার হবে।’
তিনি বলেন, ‘তাজরীনের আহত শ্রমিকেরা করোনাকালীন চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা ও বিপদে পড়ে নিতান্ত নিরুপায় হয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দফা দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খেয়ে না খেয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে আসছি। আমাদের তিন দফা দাবি, শ্রম আইনের ক্ষতিপূরণের ধারা সংশোধন সাপেক্ষে সব আহত শ্রমিকদের সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ প্রদান, সব আহত শ্রমিকদের সম্মানিজনক ও বাস্তবসম্মত পুনর্বাসন, সব আহত শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই গত ৮০ দিন ধরে আমরা আমাদের তিন দফা দাবিকে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের নজরে আনার জন্য এমন কোনও কাজ বাকি নেই যা আমরা করি নাই। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে আসছিলাম। এর মধ্যে গত ৮০ দিনে আমরা গুনে গুনে তিনবার স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শ্রম প্রতিমন্ত্রী এবং বিজিএমইএ’র কাছে। আমরা মাননীয় রাষ্ট্রপতির কাছেও এক দফা স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা সহ আপনারা সবাই দেখলেন এদেশের সরকার শ্রমিকদের মানুষই মনে করে না। এমনকি মাননীয় শ্রমপ্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের যখন দেখা হয় তখন তিনি আমাদের বলেছিলেন বিজিএমই এর কাছ গিয়ে আমাদের তাজরীনের শ্রমিক পরিচয়ের প্রত্যয়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে এককালীন কিছু অনুদান আমাদের দেওয়া যেতে পারে। শুধু তাই নয় ইতোমধ্যে পত্রিকার খবর মারফত আমরা জানতে পারি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরও আমাদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য ইতিবাচক প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েছিল। কিন্তু বিজিএমইএর কাছ থেকে প্রত্যয়ন পত্র আদায় করার কোনও আন্তরিক উদ্যোগ সরকার নেয়নি। আমাদের নিয়ে সরকার এবং বিজিএমইএসহ সংশ্লিষ্ট সবার ক্যারামবোর্ডে গুটি বানিয়ে খেলছে।’