পদ্মায় শুধু একটা সেতু নয়, দেশের লাখো মানুষের আবেগ অনুভূতি জড়িয়ে আছে এই সেতুর সঙ্গে। তবে এটি শুধু বিশ্বব্যাংকের সাথে চ্যালেঞ্জ নয়, কারিগরি দিক থেকেও বিশ্বের মধ্যে নানা কারণে অনন্য বাংলাদেশের এ সেতুটি।
পদ্মা সেতুর চূড়ান্ত স্প্যানটি বসানোর সেই মাহেন্দ্রক্ষণে অনেকেই ছুটে যান সেতুটির কাছে। তারা উপভোগ করেন এই জয়যাত্রা। মিছিলও বের করেন অনেকে।
বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনডোর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সুদীপ হালদার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘চিকিৎসা সেবার জন্য অনেক উন্নত প্রযুক্তি নেই আমাদের। বিশেষ করে হেড ইনজুরি কিংবা স্ট্রোকের রোগীদের ঢাকায় পাঠাতে হয়। দুঃখজনক হলেও সত্যি, রাত্রিকালীন লঞ্চ কিংবা সড়কপথে পাঠানোর ক্ষেত্রে শুধু দীর্ঘসূত্রতার কারণে পথেই মারা যেত অনেক রোগী। পদ্মা সেতুর সর্বশেষ স্প্যান বসল। খুব শিগগির চালু হবে এই সেতু। তখন আর হয়তো এরকম অসহায় মৃত্যু দেখতে হবে না আমাদের।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগ বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফজলে রব্বে বলেন, ‘শুধু পদ্মা সেতুই নয়, এর সঙ্গে এরইমধ্যে যুক্ত হয়েছে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৬১ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেস সড়ক। সেতু হয়ে রেললাইন যাবে পায়রাবন্দর-কুয়াকাটা পর্যন্ত। এই সড়কে আরেকটি এক্সপ্রেস ওয়ে করারও কাজ চলছে। বর্তমান সরকারের নেয়া এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ঢাকা থেকে বরিশালে আসতে সর্বোচ্চ ৩ ঘণ্টা আর পায়রাবন্দর-কুয়াকাটা যেতে সাড়ে চার ঘণ্টার বেশি লাগবে না।
বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট নিজামউদ্দিন বলেন, ‘পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতির গতি যে কতটা পাল্টে দেবে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারছি না। এরইমধ্যে বরিশাল অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠেছে বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ। তারা এখানে শিল্প-কলকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে।