রংপুরে এক পুলিশ সদস্য ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পিটিয়ে হত্যার পর প্রতিবন্ধী যুবকের লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনে হত্যার খবরে অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা করে এলাকাবাসী। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের সঙ্গে ক্ষুব্ধ জনতার ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরে অভিযুক্ত দম্পতিকে আটক করা হয়।
প্রতিবন্ধী ভাই রিকশাচালক নাজমুল ইসলামকে হারিয়ে থামছে না আহাজারি বড় ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের।
নির্যাতন চালিয়ে নাজমুলকে হত্যা করা হয়েছে এমন খবরে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল হাসান আলী ও তার স্ত্রী সাথী বেগমের রংপুর নগরীর কোর্টপাড়া এলাকার বাসা ঘেরাও করেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
খবর পেয়ে তাজহাট থানা পুলিশ উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তাদের ওপর চড়াও হয় এলাকাবাসী। এ সময় দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় কোর্টপাড়া এলাকা।
পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল হাসান আলীর বাসা থেকে নিহত নাজমুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত দম্পতিকে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শহিদুল্লাহ কায়সার বলেন, এটা আমরা সঠিকভাবে তদন্ত করব। এখানে কাউকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তারা আমাদের হেফাজতেই আছে।
নগরীর কোর্টপাড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া থাকেন পুলিশ কনস্টেবল হাসান আলী ও তার স্ত্রী সাথী বেগম। পুলিশের চাকরির পাশাপাশি ভাড়া বাসায় গ্যারেজ বানিয়ে রিকশার ব্যবসাও করেন তিনি। তাদের একটি রিকশা দিন হাজিরায় চালাতেন প্রতিবন্ধী নাজমুল ইসলাম। মঙ্গলবার রিকশাটি হারিয়ে গেলে কনস্টেবল হাসান আলী তার বাসায় নিয়ে রাতভর নির্যাতন করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ স্বজন ও এলাকাবাসীর।
নিহত নাজমুল ইসলামের ১০ বছরের শামীম নামে এক ছেলে ও শারমিন নামের এক বছরের শিশু কন্যা রয়েছে।