নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী ইউনিয়নে তিন সন্তানের জননী নূর নাহার পান্নাকে (৩০) ছুরিকাঘাতে হত্যার প্রায় তিন মাস পর তার কথিত প্রেমিক মো. বাবুলকে (২৮) রংপুর থেকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে তাকে নোয়াখালী বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়। তার বাবার নাম আবুল কালাম। বাবুল চরপার্বতী ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, হত্যার প্রায় দুই মাস আগে পরকীয়া প্রেমের টানে বাবুলের সঙ্গে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল পান্না। পরে পরিবারের লোকজন ৭-৮ দিন পর তাকে ফিরিয়ে এনে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান করে দেয়। এরপর থেকে পান্না স্বামী সন্তান নিয়ে আবার সংসার শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বাবুল। সে বিভিন্নভাবে পান্নাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পান্নাকে মোবাইল ফোনে কল করে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে ডেকে নিয়ে যায়। ওইস্থানে বাবুল ছুরিকাঘাতে পান্নাকে হত্যা করে ফেলে যায়। পরবর্তীতে গভীর রাতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বাবুল।
কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল হক জানান, ঘটনার পর থেকে বাবুলকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযানকালে গত ২১ ডিসেম্বর সোমবার রাতে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ এলাকার উপজেলা জামে মসজিদ থেকে বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার ভোরে তাকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় আনা হয়। হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য বাবুলের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চরপার্বতীর ২নং ওয়ার্ড খালেকের বাড়ির পুকুরপাড় থেকে আমিরুল হকের স্ত্রী নূর নাহার পান্নার রক্তাক্ত ও ছুরি গাথা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন পান্নার বাবা জাফর উল্যা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর পুলিশ পান্নার স্বামী আমিরুলকে গ্রেপ্তার করে। সে বর্তমানে জেলা কারাগারে রয়েছেন।