চট্টগ্রামের রাউজানে সাংবাদিক পরিচয়ে ইট ভাটায় চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) আনোয়ার হোসেন শামীম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মামলার পর তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলার পৌরসভার চার বটতল এলাকা থেকে সোমবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার পাঁচ জন হলেন- আল আমিন আহমেদ (৩৫), আরিফা আফরোজ (২০), মাছুম হাসান (৩৫), সৈয়দা জবা (২০) ও মাইক্রোবাস চালক ইলিয়াছ মজুমদার (৫৫)। তাদের মধ্যে ইলিয়াছের বাড়ি কুমিল্লায়, অন্যদের সবার বাড়ি ময়মনসিংহে। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি, মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ তারা করে বেড়াতেন বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, গাড়িতে টিভি চ্যানেলের স্টিকার সাঁটানো রয়েছে। গলায় ঝোলানো নামজাদা সব পত্রিকার আইডি কার্ড। বেশভূষায় একেকজনকে কেতাদুরস্ত সাংবাদিক মনে হলেও সংবাদকর্মীর সাইনবোর্ডের আড়ালে চাঁদাবাজিই তাদের মূল পেশা।
এই নামধারী সাংবাদিকরা একের পর এক ইটভাটায় গিয়ে হুমকি দিচ্ছেন, চাহিদা মতো টাকা না দেওয়া হলে তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে বিপদে ফেলে দেবেন বলেও হুমকি প্রদর্শন করেন। সকল ভাটা মালিক চুপচাপ টাকা দিয়ে নিরাপদ ব্যবসায় নিশ্চিত করলেও একজন সাহস করে বিষয়টি জানানোর ফলে দুই নারীসহ ৫ কথিত ‘সাংবাদিক’কে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত তাদের মাইক্রোবাসটিকেও। অন্যকে বিপদে ফেলতে এসে আজ তারা নিজেরাই কঠিন বিপদে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, চাঁদাবাজ সে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, ভয় পেয়ে তার অন্যায় মেনে নেওয়ার আগে একবার অন্তত আমাদেরকে জানান। দেখুন কাজ হয়, নাকি হয় না। আস্থা রাখুন পুলিশে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়াদের মাইক্রোবাসে বর্তমান কথা ও দেশ টিভি বাংলা নামে একটি অনলাইন টেলিভিশনের স্টিকার থাকলেও তাদের মোবাইল ফোনের পেছনে নিউজ বাংলা টিভির স্টিকার লাগানো ছিল। পাশাপাশি তারা জবস টিভি ও দেশকাল নামে একটি পত্রিকার পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়েছিল। এ চক্রটির প্রধান আল আমিন। জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে মাধ্যমিকের গন্ডি পার হতে পারেনি। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের দুইটি থানায় মাদক পাচারের অভিযোগে মামলাও আছে।