একই সঙ্গে দুই কানের পর্দা জোড়া লাগানোর অপারেশনে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন সিলেটের চিকিৎসকরা। ইতোপূর্বে একটি কানের পর্দা অপারেশনের পর কমপক্ষে দেড় মাস পর অন্য কানের পর্দার চিকিৎসা করতে হতো।
সিলেটের চিকিৎসক বিশিষ্ট নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নূরুল হুদা নাঈম একই সঙ্গে দুটি কানের পর্দার অপারেশন করে অনন্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।
বিগত ২০১০ সাল থেকে শুরু করা একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার মাধ্যমে নতুন এ পদ্ধতিতে সফলতা অর্জন করেন। প্রথম কানে স্বীকৃত পদ্ধতিতে এবং ২য় কানে কান না কেটে পর্দা জোড়া দেয়ার এ নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন ডা. নূরুল হুদা নাঈম ও তার দল। তাদের এ পদ্ধতি ও সাফল্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ২০১৯ সালের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
বুধবার এনজেএল ইএনটি সেন্টারের (কাজলশাহ সিলেট) একটি অনুষ্ঠানে এ সফলতার কথা তুলে ধরা হয়।
এনজেএল ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এ অপারেশনের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নাক কান গলা ও হেড নেক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নূরুল হুদা নাঈম। সিলেটের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব ও তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সমরেন্দ্র বিশ্বাস। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ডা. নাঈম সিলেটের গর্ব, তার মহতী উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। মানবসেবায় তার এ অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনজেএল গর্বিত মা-বাবা সম্মাননা অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবদুল মুকিত অপি, রোটারিয়ান ওয়াহিদুল হক প্রমুখ।
আসুন জন্মদিনে একটি ভালো কাজ করি, এ স্লোগানকে সামনে রেখে এনজেএল ইএনটি সেন্টার এনজেএল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৫ জন গরিব অসহায় রোগীর কানের পর্দা বিনামূল্যে অপারেশন করেন ডা. নূরুল হুদা নাঈম।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৩০ ডিসেম্বর ১০ জন রোগীর কানের পর্দার অপারেশন বিনামূল্যে করে দেয়া হয়।