শেরপুর; শীত মানেই বাঙালির পিঠা-পুলি খাওয়ার ধুম। সেইসঙ্গে গ্রামীণ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন। ডিজিটাল যুগের এই দিনে বাঙালিদের জীবন থেকে গ্রামীণ নানা কৃষ্টিকালচার প্রায় উঠেই গেছে। এতকিছুর পরও শেরপুরের নবীনগরবাসী শত বছরের ঐতিহ্য পৌষ মেলাকে ধরে রেখেছে।
“শীতের দিনের নামল বাদল, বসলো তুব মেলা। বিকেল বেলায় ভিড় জমলো ভাঙল সকাল বেলা”, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লিখে যাওয়া পৌষ মেলা কবিতার মতো শুক্রবার (১ জানুয়ারি) শেরপুরে হয়ে গেলো শত বছরের ঐতিহ্য “পৗষ মেলা”। পৌর শহরের নবীনগর এলাকায় প্রতিবছর আয়োজিত হয় এই পৌষ মেলা। মূলত ডিসেম্বরের শেষ জানুয়ারির শুরুর দিকে পৌষ মেলার আয়োজন করে আসছে নবীনগরবাসী।
মেলায় ঘোড় দৌড়, কুস্তি খেলা, গাঙ্গি খেলা ও সাইকেল রেস প্রতিযোগিতা দেখতে ভিড় করে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজার হাজার শিশুসহ নারী-পুরুষ। তবে ছিলো না কোন স্বাস্থ্যবিধির বালাই। ছিলো না প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ।
মেলায় বিভিন্ন পিঠা, মিষ্টি, সাজ, মুখরোচক খাবারসহ বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন মজাদার খাবারের পাশাপাশি শিশুদের বিভিন্ন ধরণের খেলনা, মাটির তৈরী বিভিন্ন আসবাবপত্র, মেয়েদের প্রসাধনী ও চুড়ি-মালার দোকানের পসড়া সাজিয়ে বসে দোকানিরা। বেচা-বিক্রিও চলে বেশ।
কত বছর পূর্বে এ মেলার প্রচলন হয়েছিল তা কেউ সঠিক করে বলতে না পারলেও প্রায় এক শত বছরের ওপরে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। আর, আয়োজকরা জানান, প্রতি বছর শীত মৌসুমে গ্রামীণ পরিবেশ ও ফসলের ক্ষেতের জমিতে পালন করে আসছে ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা। দিন দিন এ মেলার আকর্ষণ ও লোক সমাগমও বাড়ছে।
ঐতিহ্যবাহী এ পৌষ মেলা সারা জীবন ধরে রাখবে এলাকাবাসী মনে করেন দর্শনার্থীরা।