ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরহান উদ্দিন (৩০) নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১ জানুয়ারি) উপজেলার চরচারতলা এলাকার আশুগঞ্জ সার কারখানার আবাসিক কলোনির নম্বরের চারতলা ব্যাচেলর বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বোরহান উদ্দিন কারখানার প্রশাসন (এস্টেট) শাখার এলএমএসএস পদে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের প্রতিবেশী মো. রেজাউল করিম জানায়, বুধবার এক বন্ধুর সঙ্গে দুপুরের খাবার খান বোরহান উদ্দিন। সেদিন বিকেলেও তারা একসঙ্গে ছিলেন। রাতেও বোরহানের বাসায় কথাবার্তার আওয়াজ শুনতে পান তিনি। এরপর থেকে বোরহানের রুমের বাইরে থেকে তালা লাগোনো ছিল। আর কোনো কথাবার্তার আওয়াজ পাওয়া যায়নি।
এদিকে বোরহানের স্ত্রী চাঁদপুর থেকে বোরহানের মোবাইলে কল করে না পেয়ে তার সহকর্মীদের কাছে কল করতে থাকেন। পরে কলোনিতে থাকা বোরহানের কয়েকজন সহকর্মী তার বাসায় আসেন এবং জানালা দিয়ে ভেতরে উঁকি দিয়ে কেউ আছে কিনা দেখার চেষ্টা করেন। পরে খাটের কিনারায় একজনের মরদেহ পড়ে আছে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে একটি রক্তাক্ত ও ফুলে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহতের সুরতহাল তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। নিহতের মুখসহ শরীর ফুলে যাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিক পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। শনিবার (২ জানুয়ারি) সকালে বোরহানের স্ত্রী তার মরদেহ শনাক্ত করেন।
এদিকে খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. রইছ উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাবেদ মাহমুদ জানান, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। তার স্ত্রী বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।