কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার শেখ ফজিলাতুন্নেছা দাখিল মাদ্রাসার তিন শতাধিক শিক্ষার্থী এখন পর্যন্ত সরকার প্রদত্ত বিনামূল্যের নতুন পাঠ্যবই পায়নি।
মাদ্রাসার সুপার পদে দুই জন দাবিদার পৃথকভাবে শিক্ষার্থীদের তালিকা দিয়ে বইয়ের চাহিদা দেওয়ায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তর থেকে নতুন পাঠ্য বই সরবরাহ করা হয়নি। এর ফলে শিক্ষার্থীরা কবে নতুন বই পাবে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৫ সালের ১ আগস্ট ছিটমহল বিনিময় সম্পন্ন হওয়ার প্রাক্কালে স্থানীয় বিদ্যানুরাগী ব্যক্তিদের দানকৃত এক একর জমিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছার নামে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ অবস্থায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট বিগত ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল মাদ্রাসাটির নাম শেখ ফজিলাতুন্নেছার নামে করার অনুমোদন দেয়। এরপর ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি মাদ্রাসায় পাঠদানের জন্য ৩ বছরের সাময়িক অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরে ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে এই মাদ্রাসাটি জাতীয়করণ করা হয়। মূলত জাতীয়করণের পর থেকে মাদ্রাসাটির সুপার পদ নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। মাদ্রাসাটিতে প্রথম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত রয়েছে।
মাদ্রাসার সুপার বলে দাবিদার আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করছেন এবং প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সুপারের দায়িত্ব পালন করছেন। তার এবং তার পরিবারের দানকৃত জমিতে মাদ্রাসাটি স্থাপন করা হয়েছে। বিগত ২০২০ সালে শিক্ষাবর্ষের শুরুর দিন তিনি চাহিদা অনুযায়ী ৩০৫ সেট নতুন বই এনে বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করছেন। এবারও ৩২৭ সেট বইয়ের চাহিদা দিলেও এখন পর্যন্ত পাননি।
তিনি আরও জানান, এই মাদ্রাসার সুপার বলে পরিচয় দানকারী শাহীনুর আলম মূলত মাদ্রাসার সহ-সুপার।
মাদ্রাসার সুপার পদে আরেক দাবিদার শাহীনুর আলম জানান, প্রতিষ্ঠাকালীন তিনি মাদ্রাসার সহ-সুপার ছিলেন। এ অবস্থায় এমপিওভুক্ত অন্য একটি মাদ্রাসায় সহকারী মৌলভী হিসেবে কর্মরত থাকার কারণে বিগত ২০১৮ সালের ৩০ জুন সুপার পদ থেকে পদত্যাগ করেন আমিনুল ইসলাম। এ অবস্থায় কমিটি তাকে ভারপ্রাপ্ত সুপার দায়িত্ব দেয়। পরে ওই সালের ৩০ অক্টোবর কমিটি তাকে সুপার পদে নিয়োগ দিয়েছে।
শাহীনুর আলম আরও দাবি করেন, বিগত ২০২০ সালে তিনি চাহিদা দিয়ে ২৭৫ সেট বই এনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেছেন। নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য ৩৫৫ সেট বইয়ের চাহিদা পাঠালেও এখন পর্যন্ত পাননি।
এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই জানান, মাদ্রাসাটির সুপার পদ নিয়ে দুজন দাবিদার এবং দুরকম চাহিদা আসায় নতুন পাঠ্য বই দেওয়া হয়নি। তাদের এই সমস্যা আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে সমাধান করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় বিকল্প পদ্ধতিতে সরাসরি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্য বই তুলে দেওয়া হবে।