ভোলার লালমোহনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় ৪ কোটি টাকার ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে মামলাটি বালামভুক্ত করার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. এবিএম মাহমুদুল হক।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, নজরুল ইসলাম ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত লালমোহন উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) ১২টি রেজিস্টার্ড স্কুল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ৬০ লাখ টাকা ঘুষ নেন। ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ৪০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের ৪ হাজার টন চাল নিয়ম-বহির্ভুতভাবে ফাইল আটকে রেখে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। মাটি ভরাট উন্নয়ন কাজের নামে ৪২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এলজিইডির অধীন ইউনিয়ন পরিষদ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৬ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন।
উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণ প্রকল্প থেকে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। কাবিখা প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। স্কুলের আসবাবপত্র ক্রয় প্রকল্পের ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। স্কুল সম্প্রসারণ প্রকল্পের ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুলের বিরুদ্ধে।
অপরদিকে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় শাহবাজপুর কলেজে কর্মরত দেখিয়ে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন। এছাড়া তিনি দুইজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও দুইজন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে জিন্মি করে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ করা হয়।
বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনের দায়ের করা মামলায় নজরুল ইসলামের পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে নজরুলের দুই ছেলে নুরুল ইসলাম প্রিন্স ও হেদায়েত ইসলাম ও স্ত্রী আফিসা বেগমকে। মামলাটি স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ কোর্টে দায়ের করা হয়।
গিয়াসউদ্দিন জানান, যেহেতু স্ত্রী ও ছেলেদের ব্যাংক হিসেবে আত্মাসৎকৃত টাকা জমা রাখা হয়েছিল এবং তাদের নামে সম্পত্তি ক্রয় করা হয়। তাই তাদের আসামি করা হয়েছে।
অপরদিকে নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে প্রিন্স জানান, এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট। তাদের হয়রানি করতে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।